ঢাকা ০২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের মোটরসাইকেলে নারী যাত্রী, স্বস্তি দিচ্ছে ‘মায়া রাইড’ ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন বাহিনীকে পেন্টাগনের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার দুর্গাপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা, ২৩ মণ্ডপে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: প্রথম রাতেই পটুয়াখালীতে তিনজনের কারাদণ্ড ফেসবুকে প্রেম ও মুঠোফোনে বিয়ে, পরে প্রবাসী জানলেন স্ত্রী আসলে তরুণ ‘আবরার হত্যার সময় শিবিরের অনেকে ছাত্রলীগ সেজে বেঁচেছিল’: রাশেদ খান ইসরাইল ছাড়ছেন ২০ বৃটিশ কূটনীতিক, জেরুজালেমে কনস্যুলেটের নাম বদল

গ্রিন ইয়ার্ডের আড়ালে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে ঝুঁকি ও প্রাণহানি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকাংশই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা অভাবী মানুষ, যারা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। গ্রিন ইয়ার্ডের তকমাধারী এই শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তারা প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ বছরে এই শিল্পে ১৪৮ জন শ্রমিক নিহত এবং ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনার খবর গোপন রাখা হয় এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলা হয়, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি।

বর্তমানে সীতাকুণ্ডে ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের স্থলে বর্তমানে ৩১টি সচল শিপইয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ইয়ার্ডকে সরকার ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং ৮টি ইয়ার্ড ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজে-কলমে গ্রিন ছাড়পত্র থাকলেও অধিকাংশ ইয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্রমিকরা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল গ্রিন তকমা থাকলেই হবে না, প্রতিটি ইয়ার্ডকে ‘বাসেল কনভেনশন’ কার্যকর করতে হবে।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ পুরোনো জাহাজের ভেতর বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরক অধিদপ্তর জানায়, এলএনজি বহনকারী ‘এমটি রাসি’ জাহাজটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় এবং ওই মাসেই ভাঙার জন্য উপকূলে আনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজের (বিলস) তথ্যমতে, ২০১৫ সালে ইয়ার্ড দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন। ২০১৬ সালে ১৮ জন নিহত ও ৫ জন আহত হন। ২০১৭ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ জন এবং আহত ২০ জন। ২০১৮ সালে দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। ২০১৯ সালে ২৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন। ২০২০ সালে ১০ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ২০২১ সালে ১৩ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হন। ২০২২ সালে ৭ জন নিহত হন। ২০২৩ সালে ৭ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ৭ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে দুর্ঘটনায় চার জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালের মে মাসে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ‘হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’ গ্রহণ করে, যা গত বছরের ২৬ জুন থেকে কার্যকর হয়। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সহ বিশেষজ্ঞ গ্রুপগুলো মনে করে, শুধু হংকং কনভেনশন যথেষ্ট নয়, বাসেল কনভেনশনের কঠোর নিয়ম মানা জরুরি। গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের পর আগের দুই বছরের তুলনায় এই শিল্পে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে, যা নির্দেশ করে যে ছাড়পত্র পাওয়ার পরেও ইয়ার্ডগুলো নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।

ডিআইএফই চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন জানান, গ্রিন ছাড়পত্র পাওয়া অনেক ইয়ার্ডই বাস্তবে নিরাপত্তার নিয়মকানুন মেনে চলে না। যে কারণে গত জুলাই মাসে ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্রিন ইয়ার্ডের আড়ালে সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে ঝুঁকি ও প্রাণহানি

আপডেট সময় : ১২:২১:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙা শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের অধিকাংশই দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা অভাবী মানুষ, যারা দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। গ্রিন ইয়ার্ডের তকমাধারী এই শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তারা প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ বছরে এই শিল্পে ১৪৮ জন শ্রমিক নিহত এবং ২৭৯ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনার খবর গোপন রাখা হয় এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা করে ফেলা হয়, ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি।

বর্তমানে সীতাকুণ্ডে ১৬০টি ছোট-বড় শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের স্থলে বর্তমানে ৩১টি সচল শিপইয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ২৩টি ইয়ার্ডকে সরকার ‘গ্রিন ইয়ার্ড’ হিসেবে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং ৮টি ইয়ার্ড ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কাগজে-কলমে গ্রিন ছাড়পত্র থাকলেও অধিকাংশ ইয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ এবং শ্রমিকরা অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল গ্রিন তকমা থাকলেই হবে না, প্রতিটি ইয়ার্ডকে ‘বাসেল কনভেনশন’ কার্যকর করতে হবে।

সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে ‘ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এ পুরোনো জাহাজের ভেতর বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বিস্ফোরক অধিদপ্তর জানায়, এলএনজি বহনকারী ‘এমটি রাসি’ জাহাজটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায় এবং ওই মাসেই ভাঙার জন্য উপকূলে আনা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজের (বিলস) তথ্যমতে, ২০১৫ সালে ইয়ার্ড দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হন। ২০১৬ সালে ১৮ জন নিহত ও ৫ জন আহত হন। ২০১৭ সালে নিহতের সংখ্যা ছিল ১৯ জন এবং আহত ২০ জন। ২০১৮ সালে দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ৪ জন আহত হন। ২০১৯ সালে ২৩ জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হন। ২০২০ সালে ১০ জন নিহত এবং ২৯ জন আহত হন। ২০২১ সালে ১৩ জন নিহত এবং ৪৩ জন আহত হন। ২০২২ সালে ৭ জন নিহত হন। ২০২৩ সালে ৭ জন নিহত ও ২৮ জন আহত হন। ২০২৪ সালে ৭ জন নিহত ও ২২ জন আহত হন। সর্বশেষ ২০২৫ সালে দুর্ঘটনায় চার জন নিহত এবং ৫৪ জন আহত হয়েছেন।

জাহাজ ভাঙা শিল্পে শ্রমিকের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০৯ সালের মে মাসে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ‘হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন’ গ্রহণ করে, যা গত বছরের ২৬ জুন থেকে কার্যকর হয়। তবে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সহ বিশেষজ্ঞ গ্রুপগুলো মনে করে, শুধু হংকং কনভেনশন যথেষ্ট নয়, বাসেল কনভেনশনের কঠোর নিয়ম মানা জরুরি। গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের পর আগের দুই বছরের তুলনায় এই শিল্পে মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা বেড়েছে, যা নির্দেশ করে যে ছাড়পত্র পাওয়ার পরেও ইয়ার্ডগুলো নিরাপদ হয়ে ওঠেনি।

ডিআইএফই চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মাহবুব হোসেন জানান, গ্রিন ছাড়পত্র পাওয়া অনেক ইয়ার্ডই বাস্তবে নিরাপত্তার নিয়মকানুন মেনে চলে না। যে কারণে গত জুলাই মাসে ফেরদৌস স্টিলের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh