ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে আইডিআরএ’র বিশেষ উদ্যোগ বিকৃত ভিডিও নিয়ে ক্ষুব্ধ জাহ্নবী, নিলেন কড়া অবস্থান গণঅধিকারের সদস্য জসিমের পদ স্থগিত, কারণ দর্শানোর নোটিশ শ্রেয়াস আইয়ারের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত নেশনস লিগে ইভান বাশিচের পেনাল্টি গোলে পোল্যান্ডকে হারাল বসনিয়া আজ শেষ হচ্ছে একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় ধাপের ভর্তি নিশ্চায়ন কর অঞ্চল-৪ ঢাকায় ৪৯ পদে নিয়োগ, আবেদন শুরু ৫ অক্টোবর কুষ্টিয়ায় লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক মোংলায় গাঁজা উদ্ধারের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তি: ১২০ কেজি না ৭৫ কেজি?

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নীলফামারী, ব্যাহত কৃষি ও শিল্প উৎপাদন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে নীলফামারীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন এলাকাগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলার শিল্প ও কৃষি খাতে।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় এই বিশাল ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদন করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক কারখানা জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করলেও এতে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষিতেও বিদ্যুৎ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর উপজেলার মতো কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে সেচ পাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

দিনের তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে ফ্যান বা প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না, আবার রাতের বেলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। জাতীয় পর্যায়েও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে এই ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক এই সমস্যা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নীলফামারী, ব্যাহত কৃষি ও শিল্প উৎপাদন

আপডেট সময় : ১০:০০:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

তীব্র লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে নীলফামারীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও নেসকোর আওতাধীন এলাকাগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে জেলার শিল্প ও কৃষি খাতে।

নীলফামারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৮০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় এই বিশাল ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা চেয়ে জেলার ছয়টি থানায় আবেদন করা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎনির্ভর কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের সরাসরি প্রভাব পড়ছে। বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া বারবার বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক কারখানা জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করলেও এতে জ্বালানি খরচ ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলার অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষিতেও বিদ্যুৎ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর ও সদর উপজেলার মতো কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে সেচ পাম্প চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের সেচ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

দিনের তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। বাসাবাড়িতে ফ্যান বা প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা যাচ্ছে না, আবার রাতের বেলা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্বাভাবিক ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়ে নীলফামারী পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) শেখ মনোয়ার মোর্শেদ জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়াই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। জাতীয় পর্যায়েও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে এই ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক এই সমস্যা হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy