নেত্রকোনায় কবরস্থানের দখল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২০, এলাকায় উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ১২:১৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া গ্রামে কবরস্থানের জায়গা নিয়ে বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় ১২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমগড়া ও পুলিয়া পানেশ্বর পাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে ১৪৪ শতাংশ আয়তনের একটি পুরনো কবরস্থানের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি কবরস্থান ঘেঁষে আমগড়া গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নিলে পুলিয়া পানেশ্বর পাড়ার লোকজন তাতে বাধা দেন। এর জের ধরেই আজ সকালে আমগড়া ও নল্লাপাড়া গ্রামের কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিয়া পানেশ্বর পাড়া গ্রামে হামলা চালায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ৫৪ জন আমগড়া, নল্লাপাড়া ও হাসনাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাদের কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহাব ও হোসেন মিয়া অভিযোগ করেন, কবরস্থানটি ৮০-৯০ বছর ধরে তাদের পূর্বপুরুষরা হেফাজত করে আসছেন এবং সম্প্রতি স্থানীয় এমপির বরাদ্দে সেখানে দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। তারা যুবলীগ নেতা জুঁই, জনি ও কামাল পাশার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ তুলেছেন।
অন্যদিকে, আমগড়া গ্রামের কামাল পাশা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কবরস্থানের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে এবং তাদের পক্ষেরও ৫৪ জন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, ১৫ দিন আগে ইউনিয়ন পরিষদে এ নিয়ে সালিস হয়েছিল, কিন্তু পানেশ্বর পাড়ার লোকজন কবরস্থান ব্যবহারে বাধা দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল পাঠান জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই কবরস্থানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ইউনিয়ন পরিষদ করবে এবং উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলাকারীরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে।পানেশ্বর পাড়ার বাসিন্দাদের দাবি, হামলার সময় হামলাকারীরা কমপক্ষে ২০ লক্ষ টাকার মালামাল লুটপাট করেছে।এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি আমরা সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মাটি কাটিয়েছি এবং স্থানীয় এমপি সাহেব দেয়াল নির্মাণের জন্য এক লক্ষ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।





























