ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেওয়ানগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে ভ্যান, চালক নিহত কল্কি-২: দীপিকার চরিত্রে নতুন কাউকে নেওয়া হচ্ছে না যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মমতার কড়া হুঙ্কার ক্যানসার চিকিৎসায় পাঁচটি নতুন বায়োলজিকস আনবে এসকেএফ অষ্টগ্রামে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ লিডার অব দ্য ইসলামিক ইকোনমি অ্যাওয়ার্ড পেলেন ড. মাসুম বিল্লাহ পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় চেকপোস্টে আত্মঘাতী হামলায় ১১ নিহত ২০২৭ বিশ্বকাপই ভারতের হয়ে আমার শেষ আসর: বিরাট কোহলি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশেও কমানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পার্বত্য জেলা পরিষদে শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক স্বচ্ছতার দাবি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙ্গামাটি কোটা বিরোধী ঐক্যজোট। সোমবার সকালে জেলা শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দীর্ঘদিনের প্রচলিত বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ন্যায়বিচারের চেতনার পরিপন্থী এবং তরুণ চাকরীপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈষম্য।

নেতারা উল্লেখ করেন, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সারা দেশে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি। এর আগে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আন্দোলন ও স্মারকলিপির মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়।

৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে জানায়। উক্ত ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে নির্দিষ্ট কোনো শতকরা কোটার বিধান নেই। সমযোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারবে না। জাতীয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালনা এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি এবং সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এরপরও টালবাহানা করা হলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রতি এই ন্যায্য দাবির বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, সরকারের আইনগত ব্যাখ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এতদিন প্রচলিত ৬৭-৩৩ শতাংশ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা আইনি ভিত্তিহীন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

পার্বত্য জেলা পরিষদে শিক্ষক নিয়োগে মেধাভিত্তিক স্বচ্ছতার দাবি

আপডেট সময় : ০৩:২০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙ্গামাটি কোটা বিরোধী ঐক্যজোট। সোমবার সকালে জেলা শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দীর্ঘদিনের প্রচলিত বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ন্যায়বিচারের চেতনার পরিপন্থী এবং তরুণ চাকরীপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈষম্য।

নেতারা উল্লেখ করেন, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সারা দেশে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি। এর আগে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আন্দোলন ও স্মারকলিপির মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়।

৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে জানায়। উক্ত ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে নির্দিষ্ট কোনো শতকরা কোটার বিধান নেই। সমযোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারবে না। জাতীয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালনা এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি এবং সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এরপরও টালবাহানা করা হলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রতি এই ন্যায্য দাবির বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, সরকারের আইনগত ব্যাখ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এতদিন প্রচলিত ৬৭-৩৩ শতাংশ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা আইনি ভিত্তিহীন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh