

রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাঙ্গামাটি কোটা বিরোধী ঐক্যজোট। সোমবার সকালে জেলা শহরের বনরূপা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দীর্ঘদিনের প্রচলিত বৈষম্যমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার মাধ্যমে মেধা ও যোগ্যতাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা সংবিধানের ন্যায়বিচারের চেতনার পরিপন্থী এবং তরুণ চাকরীপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈষম্য।
নেতারা উল্লেখ করেন, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সারা দেশে ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো তা বাস্তবায়ন করেনি। এর আগে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিলে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আন্দোলন ও স্মারকলিপির মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়।
৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে জানায়। উক্ত ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ১৯৮৯ সালের জেলা পরিষদ আইনে নির্দিষ্ট কোনো শতকরা কোটার বিধান নেই। সমযোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারবে না। জাতীয় প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা পরিচালনা এবং চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি এবং সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস। নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এরপরও টালবাহানা করা হলে পাহাড়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে তারা গণমাধ্যমের প্রতি এই ন্যায্য দাবির বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতারা বলেন, সরকারের আইনগত ব্যাখ্যায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এতদিন প্রচলিত ৬৭-৩৩ শতাংশ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা আইনি ভিত্তিহীন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২