বর্ষার ঢেউয়ে নতুন রূপে কক্সবাজার, পর্যটকের ঢল

- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বর্ষার মেঘে ঢাকা আকাশ আর উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে এক নতুন রূপে সেজেছে কক্সবাজার। ঝুম বৃষ্টি আর মেঘলা আবহাওয়ার মাঝে সৈকতের বালুচরে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউয়ের টানে ছুটে আসছেন হাজারো পর্যটক। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার লাবণী, সুগন্ধা, শৈবাল ও কলাতলী পয়েন্টে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ সাগরের পানিতে গা ভেজাচ্ছেন, কেউবা বালুচরে বসে বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার অনেকে ঘোড়ায় চড়ে বা ক্যামেরায় স্মৃতি বন্দি করছেন তাদের ভ্রমণের মুহূর্তগুলো।
শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, পর্যটকরা পাহাড়, ঝাউবন এবং মেরিন ড্রাইভের সবুজ প্রকৃতি ও মেঘলা আকাশের মেলবন্ধন উপভোগ করছেন। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, পঞ্চমবারের মতো কক্সবাজার এসে বর্ষার সৌন্দর্য দারুণ উপভোগ করছেন। রাজশাহী থেকে আসা শাহীন দেলোয়ারের মতে, বর্ষার কক্সবাজারে গরমের তীব্রতা নেই এবং রোদে পোড়ার ঝুঁকি কম থাকায় ভ্রমণ বেশ আরামদায়ক। মিরপুরের মুজিবুর রহমান বলেন, শীতের চেয়ে বর্ষার কক্সবাজার তার বেশি প্রিয়, কারণ এ সময় পর্যটকের চাপ কম থাকে এবং হোটেলগুলোতে থাকা সহজ হয়।
তবে বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি উত্তাল সাগর নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। টানা বৃষ্টির কারণে ঢেউয়ের পরিধি বাড়ায় সৈকতের বিভিন্ন স্থানে রিপ কারেন্ট, খাল ও গুপ্ত গর্ত তৈরি হয়েছে। পর্যটন বিশ্লেষক আবু মোরশেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে এবং পর্যটকদের হাঁটুপানির বেশি গভীরে না নামার ও লাইফগার্ডের নজরদারিতে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সি সেফ লাইফগার্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, তাদের পেট্রোল টিম ও উদ্ধার সরঞ্জামসহ প্রশিক্ষিত কর্মীরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে, টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক তানভীর ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্ষা মৌসুম পর্যটনের অফ-সিজন হিসেবে পরিচিত হলেও পর্যটক টানতে কক্সবাজারের হোটেল-রিসোর্টগুলো দিচ্ছে বিশেষ সুবিধা। ওশান প্যারাডাইসের বিপণন ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ নূর সোমেল জানান, বর্ষার প্রকৃতির অনন্য রূপ পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে তাদের হোটেলে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে এবং অতিথিদের আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।





























