গাজীপুরে হোটেলে গৃহবধূ হত্যা: প্রধান আসামি সাইফুল গ্রেপ্তার

- আপডেট সময় : ০৭:০৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘আনোয়ারা ম্যানশন’ ইভ্যালি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ মোসা. শান্তা বেগমকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা ইউনিট। গ্রেপ্তারের পর সাইফুল আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত শান্তা বেগমের (৩৩) বাড়ি নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষীকোল গ্রামে। তিনি শহিদুল ইসলামের মেয়ে। শান্তা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে শান্তা বেগম ও তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়দানকারী মো. সাইফুল ইসলাম (৩৮) চান্দনা চৌরাস্তার ওই আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই রাতেই হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ কক্ষটি থেকে শান্তার মরদেহ উদ্ধার করে। তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হলে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই গাজীপুর জেলা। পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারীর নেতৃত্বে শুরু হয় নিবিড় তদন্ত।
প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার মাত্র এক দিনের মাথায় ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুল ও শান্তার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য সম্পর্কে সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। পরে বুকে আরও আঘাত করে নিশ্চিত মৃত্যুর পর নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে তিনি পালিয়ে যান।
পিবিআই গাজীপুর জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পরপরই ক্রাইম সিন টিম ও ছায়া তদন্ত টিম কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।




























