ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় মামলা, ৩ নেতাকর্মী গ্রেফতার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রণতরি পাঠানোর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার মহেশপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক ১ আলমডাঙ্গায় ভুয়া সাংবাদিক সেজে চাঁদা দাবি, ১৫ দিনের কারাদণ্ড লক্ষ্মীপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা ও সংবাদ সম্মেলন পারমাণবিক হামলা হলে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি দখলের হুঁশিয়ারি ইরানের এলএনজি কার্গো নিয়ে বিতর্ক: ১০ বছরের সর্বনিম্নে দেশের গ্যাস সরবরাহ গুরুদাসপুরে ৪৭ লাখ টাকার ড্রেন নির্মাণে গাফিলতি, দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার গণিত অলিম্পিয়াড বিজয়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ

সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

হীমেল কুমার মিত্র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩ ২৬৯ বার পড়া হয়েছে

সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পঞ্চগড়ে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় সাবিত্রী রানি (২২) নামে এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষোভ শুরু করলে ক্লিনিকের পরিচালকসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকরা পালিয়ে যান। পরে বোদা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

(১ এপ্রিল) শনিবার রাতে উপজেলা সদরের সুরমা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিত্রী রানি ঠাকুরগাঁও জেলার বৈরাগি চাপাতি গ্রামের কমল রায়ের স্ত্রী। সে বোদা উপজেলার তাতিপাড়া গ্রামের মৃত দিনমহন রায়ের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে সাবিত্রী রানিকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে স্বামী কমল রায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেন। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য ওটিতে নিয়ে যায়। সেখানে বোদা মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রহমতুল্লাহ ও আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. হুদা ছিলেন। অস্ত্রোপচার শুরু করার কয়েক মিনিটের মধ্যে সাবিত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাউকে কিছু না বলে চিকিৎসকরা চলে যান। এর ঘণ্টা খানেক পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বজনদের ডেকে তাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে গোপনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তবে এর আগেই নবজাতকসহ ওই প্রসূতি মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করে।

প্রসূতির স্বামী কমল রায়ের অভিযোগ, তাকে ক্লিনিকে আনার পরও সে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। সিজারের কথা বলে তাকে অপারেশন রুমে নেয় চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু হলে কাউকে কিছু না বলেই গোপনে অন্যত্র নিয়ে যান এবং মিথ্যা আশ্বাস দেন। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আনন আফসান জানান, ওই প্রসূতিকে এখানে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নবজাতককে বাঁচানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় রোববার (২ এপ্রিল) দুপুরে জানান, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ জানান, রাতেই খবর পেয়ে ক্লিনিকেও হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। থানায় কোনো অভিযোগ না থাকার পরও আমরা বিষয়টি দেখছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:৩১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ এপ্রিল ২০২৩

পঞ্চগড়ে সিজারিয়ান অপারেশন করাতে গিয়ে চিকিৎসকের অবহেলায় সাবিত্রী রানি (২২) নামে এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বজনরা বিক্ষোভ শুরু করলে ক্লিনিকের পরিচালকসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকরা পালিয়ে যান। পরে বোদা থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

(১ এপ্রিল) শনিবার রাতে উপজেলা সদরের সুরমা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাবিত্রী রানি ঠাকুরগাঁও জেলার বৈরাগি চাপাতি গ্রামের কমল রায়ের স্ত্রী। সে বোদা উপজেলার তাতিপাড়া গ্রামের মৃত দিনমহন রায়ের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে সাবিত্রী রানিকে ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থা জানিয়ে স্বামী কমল রায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাও করেন। পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য ওটিতে নিয়ে যায়। সেখানে বোদা মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রের সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক রহমতুল্লাহ ও আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার ডা. হুদা ছিলেন। অস্ত্রোপচার শুরু করার কয়েক মিনিটের মধ্যে সাবিত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাউকে কিছু না বলে চিকিৎসকরা চলে যান। এর ঘণ্টা খানেক পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ স্বজনদের ডেকে তাকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। একপর্যায়ে গোপনে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। তবে এর আগেই নবজাতকসহ ওই প্রসূতি মারা যান। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করে।

প্রসূতির স্বামী কমল রায়ের অভিযোগ, তাকে ক্লিনিকে আনার পরও সে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। সিজারের কথা বলে তাকে অপারেশন রুমে নেয় চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যু হলে কাউকে কিছু না বলেই গোপনে অন্যত্র নিয়ে যান এবং মিথ্যা আশ্বাস দেন। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আনন আফসান জানান, ওই প্রসূতিকে এখানে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নবজাতককে বাঁচানোর চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় রোববার (২ এপ্রিল) দুপুরে জানান, চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যুর কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বোদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ জানান, রাতেই খবর পেয়ে ক্লিনিকেও হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। থানায় কোনো অভিযোগ না থাকার পরও আমরা বিষয়টি দেখছি।