ঢাকা ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালী জেটিঘাটের জনভোগান্তির শেষ কোথায়

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩ ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

মহেশখালী জেটিঘাটের জনভোগান্তির শেষ কোথায়

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

 

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী জেটিঘাটে যাত্রী পারাপারে জনভোগান্তির শেষ কোথায়? তা এখন ভুক্তভোগী সকলের মুখে মুখে ৷এ নিয়ে চলছে সর্বাত্মক আলোচনা সমালোচনা ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে নেটিজেনরা ঝড় তুলছে জনভোগান্তির বিষয়ে ৷

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা মতে দেশ যখন পাল্লা দিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে হাঁটছে, তার বিপরীতে দিনদিন মহেশখালী জেটিঘাটে জনভোগান্তি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ৷ এ যেন দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই অবস্থা!

প্রতিদিন সকাল হলেই মহেশখালী ঘাটে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। এই ভীড় কখনো কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকে। ঘাটে পর্যায়ক্রমে মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও তা নিরসনে কারোর কোন ভূমিকা চোখে পড়ে না। বরং লাইনে দাড়িয়ে যাত্রীরাই ভোগান্তির জন্য আপসোস করতে থাকে। জেটিঘাটের এই নৈরাজ্য, অব্যবস্থাপনা ও হয়রাণীর এসব ঘটনা প্রতিদিনের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবী করছেন- শুধুমাত্র উপজেলা প্রশাসনের নজরদারীর অভাবই ঘাটের জনদুর্ভোগের জন্য দায়ী।
তাদের প্রশ্ন- জনভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের নীরবনা কেন?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- মহেশখালী জেটিঘাট দিয়ে নৌপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জেলা সদর কক্সবাজারে যাতায়াত করে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী স্পীড বোট এবং রাত ৮টা পর্যন্ত গাম বোট চলাচল করে এই নৌপথে। কিন্তু সকাল ৬টা থেকে যাত্রীরা মহেশখালী জেটিঘাটে এসে পৌঁছালেও বোট চালকরা সঠিক সময়ে ঘাটে আসে না। যার কারণে সময়ের সাথে সাথে বোটের অভাবে যাত্রীদের ভীড়ও বাড়তে থাকে, তা এক পর্যায়ে দীর্ঘ মিছিলে রুপ নেয় ৷

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে মহেশখালী ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির দৃশ্য দেখা মিলে। ঘাটে সারি সারি বোট বাঁধা থাকলেও চালকদের দেখা মিলে নি। এদিকে যতই সময় যাচ্ছে যাত্রীদের লাইন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে বৃদ্ধ, রোগী, মহিলা ও শিশুরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন চালক আসে বোট চালু করে এবং অল্প যাত্রী নিয়ে চলে যায়। আর বাকিরা অপেক্ষা করতে থাকে। অপরদিকে ঘাটে দায়িত্বরত কোন ব্যক্তিরই দেখা মিলেনি ওই সময়।

পরে সকাল সাড়ে দশটার সময় ঘাটে কর্মরতদের দেখা মিলে ৷ সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তাদের কর্মতৎপরতা বেড়ে যায়!

ঘাটে দায়িত্বরতরা জানান, এখন রমজান মাস ৷ তার উপর ভোর ০৬টা, প্রায় মানুষ ঘুমে থাকে ৷ একটানা ০৩দিন সরকারী ছুটি শেষে চাকরিজীবিরা চলে যাচ্ছে, তাই এমন দীর্ঘ লাইন ৷ ঘাটে দীর্ঘ লাইন প্রতিদিন সকালে পড়েনা , তাই স্বাভাবিক ভাবে ঘাটে ড্রাইভার ও থাকেনা ! ইমার্জেন্সির জন্য এক দুইজন থাকে মাত্র ৷ তবে ঘাট নিয়ে সমস্যাটা নিয়মের মধ্যে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি ৷

রাহামত করিম নামের একজন আইনজীবি ঘাটের ভোগান্তি বর্ণনা করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “মহেশখালী ঘাটের ত্রাহি অবস্থা সর্বজনবিদিত। সবসময় শুনে থাকি ঘাটের অব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। আজকে দেখলাম ঘটনা যারপরনাই সত্য। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের সর্বেশ্বর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা স্বদম্বে শত শত অপেক্ষামান যাত্রীর ভীড় উপেক্ষা করে স্পীড় বোট নিয়ে আজকে সকাল ৯.২০ ঘটিকার সময় যুবরাজের বেশে চলে গেলেন। একটি বারের জন্য কোন যাত্রী বা ঘাটে নিয়োজিত কোন কর্মচারীকে বললেন না- ঘাটে বোট কই?”

received 774042564083174

বোট চালকরা জানান, নির্দিষ্ট সময়ে বোট ছাড়ার বিষয়ে তাদের বাধ্যবাধকতা নাই। তবে সকালেই তারা ঘাটে চলে আসেন। মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠতে কিংবা ব্যস্ততা থাকলে আসতে দেরী হয়।

আরো জানা গেছে- মহেশখালী এবং কক্সবাজার জেটিঘাটে যাত্রী ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়। এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া ও টোল আদায়, যাত্রীদের সাথে অসদাচরণ, স্বজনপ্রীতি সহ আরো নানান দৃশ্যমান অভিযোগ রয়েছে। এক যুগ আগে এই ঘাটটি ইজারার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পরিচালনা করতেন। পরে ২০১১ সালের পর থকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রী পারাপারের জেটিঘাটটি খাস কালেকশনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ওই ঘাটে খাস কালেকশন, যাত্রীসেবাসহ নানা বিষয় দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীরা।

এই বিষয়য়ে জানতে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিনের সরকারি নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে না পেয়ে হোয়াটস এপে পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

মহেশখালী জেটিঘাটের জনভোগান্তির শেষ কোথায়

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩
print news

 

মফিজুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধি:

কক্সবাজারের মহেশখালী জেটিঘাটে যাত্রী পারাপারে জনভোগান্তির শেষ কোথায়? তা এখন ভুক্তভোগী সকলের মুখে মুখে ৷এ নিয়ে চলছে সর্বাত্মক আলোচনা সমালোচনা ৷ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে নেটিজেনরা ঝড় তুলছে জনভোগান্তির বিষয়ে ৷

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা মতে দেশ যখন পাল্লা দিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে হাঁটছে, তার বিপরীতে দিনদিন মহেশখালী জেটিঘাটে জনভোগান্তি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে ৷ এ যেন দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই অবস্থা!

প্রতিদিন সকাল হলেই মহেশখালী ঘাটে মানুষের ভীড় বাড়তে থাকে। এই ভীড় কখনো কখনো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত থাকে। ঘাটে পর্যায়ক্রমে মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও তা নিরসনে কারোর কোন ভূমিকা চোখে পড়ে না। বরং লাইনে দাড়িয়ে যাত্রীরাই ভোগান্তির জন্য আপসোস করতে থাকে। জেটিঘাটের এই নৈরাজ্য, অব্যবস্থাপনা ও হয়রাণীর এসব ঘটনা প্রতিদিনের নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। স্থানীয়রা দাবী করছেন- শুধুমাত্র উপজেলা প্রশাসনের নজরদারীর অভাবই ঘাটের জনদুর্ভোগের জন্য দায়ী।
তাদের প্রশ্ন- জনভোগান্তি লাঘবে প্রশাসনের নীরবনা কেন?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- মহেশখালী জেটিঘাট দিয়ে নৌপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ জেলা সদর কক্সবাজারে যাতায়াত করে। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রীবাহী স্পীড বোট এবং রাত ৮টা পর্যন্ত গাম বোট চলাচল করে এই নৌপথে। কিন্তু সকাল ৬টা থেকে যাত্রীরা মহেশখালী জেটিঘাটে এসে পৌঁছালেও বোট চালকরা সঠিক সময়ে ঘাটে আসে না। যার কারণে সময়ের সাথে সাথে বোটের অভাবে যাত্রীদের ভীড়ও বাড়তে থাকে, তা এক পর্যায়ে দীর্ঘ মিছিলে রুপ নেয় ৷

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে মহেশখালী ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির দৃশ্য দেখা মিলে। ঘাটে সারি সারি বোট বাঁধা থাকলেও চালকদের দেখা মিলে নি। এদিকে যতই সময় যাচ্ছে যাত্রীদের লাইন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে বৃদ্ধ, রোগী, মহিলা ও শিশুরাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন চালক আসে বোট চালু করে এবং অল্প যাত্রী নিয়ে চলে যায়। আর বাকিরা অপেক্ষা করতে থাকে। অপরদিকে ঘাটে দায়িত্বরত কোন ব্যক্তিরই দেখা মিলেনি ওই সময়।

পরে সকাল সাড়ে দশটার সময় ঘাটে কর্মরতদের দেখা মিলে ৷ সংবাদকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তাদের কর্মতৎপরতা বেড়ে যায়!

ঘাটে দায়িত্বরতরা জানান, এখন রমজান মাস ৷ তার উপর ভোর ০৬টা, প্রায় মানুষ ঘুমে থাকে ৷ একটানা ০৩দিন সরকারী ছুটি শেষে চাকরিজীবিরা চলে যাচ্ছে, তাই এমন দীর্ঘ লাইন ৷ ঘাটে দীর্ঘ লাইন প্রতিদিন সকালে পড়েনা , তাই স্বাভাবিক ভাবে ঘাটে ড্রাইভার ও থাকেনা ! ইমার্জেন্সির জন্য এক দুইজন থাকে মাত্র ৷ তবে ঘাট নিয়ে সমস্যাটা নিয়মের মধ্যে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি ৷

রাহামত করিম নামের একজন আইনজীবি ঘাটের ভোগান্তি বর্ণনা করতে গিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেন, “মহেশখালী ঘাটের ত্রাহি অবস্থা সর্বজনবিদিত। সবসময় শুনে থাকি ঘাটের অব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিরা বিন্দুমাত্র বিচলিত নন। আজকে দেখলাম ঘটনা যারপরনাই সত্য। মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের সর্বেশ্বর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা স্বদম্বে শত শত অপেক্ষামান যাত্রীর ভীড় উপেক্ষা করে স্পীড় বোট নিয়ে আজকে সকাল ৯.২০ ঘটিকার সময় যুবরাজের বেশে চলে গেলেন। একটি বারের জন্য কোন যাত্রী বা ঘাটে নিয়োজিত কোন কর্মচারীকে বললেন না- ঘাটে বোট কই?”

received 774042564083174

বোট চালকরা জানান, নির্দিষ্ট সময়ে বোট ছাড়ার বিষয়ে তাদের বাধ্যবাধকতা নাই। তবে সকালেই তারা ঘাটে চলে আসেন। মাঝেমধ্যে ঘুম থেকে উঠতে কিংবা ব্যস্ততা থাকলে আসতে দেরী হয়।

আরো জানা গেছে- মহেশখালী এবং কক্সবাজার জেটিঘাটে যাত্রী ভোগান্তির ঘটনা নতুন নয়। এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া ও টোল আদায়, যাত্রীদের সাথে অসদাচরণ, স্বজনপ্রীতি সহ আরো নানান দৃশ্যমান অভিযোগ রয়েছে। এক যুগ আগে এই ঘাটটি ইজারার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা পরিচালনা করতেন। পরে ২০১১ সালের পর থকে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌপথে যাত্রী পারাপারের জেটিঘাটটি খাস কালেকশনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের তত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ওই ঘাটে খাস কালেকশন, যাত্রীসেবাসহ নানা বিষয় দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মচারীরা।

এই বিষয়য়ে জানতে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ ইয়াসিনের সরকারি নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোনে না পেয়ে হোয়াটস এপে পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি।