আরও ১২ জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমাতে এবং তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে চতুর্থ ধাপে দেশের আরও ১২টি জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
নতুন করে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের আওতায় আসা জেলাগুলো হলো টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে এবং আসামি মুক্ত হতে ১২টি জটিল ধাপ পার হতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থান থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকেই ই-বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। এর পরপরই মোবাইলে ওটিপি ও কনফার্মেশন চলে আসবে।
মন্ত্রী আরও জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় পরীক্ষামূলক চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে ৮টি এবং তৃতীয় ধাপে বগুড়াসহ আরও ৭টি জেলায় ই-বেইলবন্ড সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এর আগে যুক্ত হওয়া ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার ফলে বিচারিক গতি বহুগুণ বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মামলা জট নিরসনে বিচারকদের উৎসাহিত করতে মন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারবে, তাদের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস। এছাড়া পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা একমত পোষণ করেন যে, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে এবং বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।

























