নীলফামারীর ডোমারে সিজারিয়ান প্রসূতির মৃত্যু। আটক ৩
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ জুন ২০২৫ ৫৩ বার পড়া হয়েছে

বুরো চিপ রংপুর বিভাগ
নীলফামারীর ডোমারের জনতা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল সিজারিয়ান অপারেশনের কারণে বেবি আক্তার (২৮) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তবে সদ্যজাত পুত্র সন্তানটি সুস্থ রয়েছে।
এ ঘটনায় এক চিকিৎসকসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বেবি আক্তার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বড়গাছা দরগাপাড়া এলাকার মো. নুর আলমের স্ত্রী। তার স্বামী নুর আলম এ ঘটনায় ডোমার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পলাতক রয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানাযায়
গত শনিবার (১৪ জুন) বিকেলে প্রসব বেদনা নিয়ে বেবি আক্তারকে ডোমারের জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. রিজওয়ানা ইয়াসমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, রোগীর পেটে পানি না থাকায় দ্রুত সিজারিয়ান অপারেশন প্রয়োজন। সন্ধ্যা ৬টায় সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
অপারেশনের সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. রিজওয়ানা ইয়াসমিন, ডা. নিহার রঞ্জন এবং ওটি সহকারী বিপুল সরকার।
কিন্তু অপারেশনের পর রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও কোনো কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই রোগীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে রবিবার ভোরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
এদিকে রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনরা জনতা ক্লিনিক ঘেরাও করে চিকিৎসকদের বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে পুলিশ ও পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পুলিশ জনতা ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব, সেবিকা মোছা. সুমনা আক্তার ও সাবিয়া আক্তারকে আটক করে।
রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রায়হান বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় জনতা ক্লিনিক সিলগালা করেন তারা।
এদিকে বেবি আক্তার (২৮) এর স্বজনরা জানান ডাক্তারদের চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.রায়হান বারী বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ পেয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, “ভুল চিকিৎসার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর ইসলাম জানান অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।






















