ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নামফলকে নিজের নাম দেখে উদ্বোধন না করেই ফিরলেন এমপি হাসনাত ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘে রাশিয়ার কড়া বার্তা যশোরের চৌগাছায় পুকুরে ডুবে আড়াই বছরের মামা-ভাগিনার মৃত্যু বাংলা কিউআরে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনে প্রণোদনা পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ, বিএনপি নেতা জড়িত ঢাকার ৩৫ এলাকায় ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকি, অক্টোবরে বাড়তে পারে প্রকোপ জানুয়ারিতে সংসদে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের পরিকল্পনা ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ রাজপুত্রের দেহাবশেষ পাঠানোর নেপথ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ ৩ অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই, জানাল বোর্ড অব পিস

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে সাংসদ আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, তবে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনে তা আরও স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত বছর গুদামে ১২ লাখ মেট্রিক টন সার ছিল, যেখানে বর্তমানে আছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। বরাদ্দের পার্থক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে যেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার বরাদ্দ ছিল, চলতি অর্থবছরের একই মাসে তা ১ হাজার ৮৪৭ টনে নেমে এসেছে। কেন বরাদ্দে এই পার্থক্য এবং সার কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সার বিতরণব্যবস্থা কৃষকবান্ধব করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির দু’জন মাস্টার ডিলারের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সংখ্যক ডিলার কাজ করছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন মাস্টার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে এবং আবেদনের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অবৈধ মজুতের ঘটনায় গ্রেপ্তার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্য, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্য এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সাত সদস্যের এই কমিটিগুলোতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় সার বিতরণ নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিলারদের রসিদ দিয়ে সার বিক্রি করতে হয়, তাই জনপ্রতিনিধিরা সজাগ থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা অপতৎপরতা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র

আপডেট সময় : ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বুধবার জাতীয় সংসদে সাংসদ আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। কৃষিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশে সারের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, তবে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। তবে গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনে তা আরও স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত বছর গুদামে ১২ লাখ মেট্রিক টন সার ছিল, যেখানে বর্তমানে আছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। বরাদ্দের পার্থক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে যেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার বরাদ্দ ছিল, চলতি অর্থবছরের একই মাসে তা ১ হাজার ৮৪৭ টনে নেমে এসেছে। কেন বরাদ্দে এই পার্থক্য এবং সার কোথায় যাচ্ছে, সে বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সার বিতরণব্যবস্থা কৃষকবান্ধব করতে সরকার ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিমলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় তিনজন ডিলার রাখার বিধান করা হয়েছে। বর্তমানে বিসিআইসি ও বিএডিসির দু’জন মাস্টার ডিলারের পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সংখ্যক ডিলার কাজ করছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন মাস্টার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে এবং আবেদনের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে বাড়িয়ে ১০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জানান, নীতিমালা লঙ্ঘনকারী ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে অবৈধ মজুতের ঘটনায় গ্রেপ্তার, জরিমানা ও ডিলারশিপ বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সার মনিটরিং কমিটি কাজ করছে। উপজেলা পর্যায়ে ১০ সদস্য, জেলা পর্যায়ে ১৩ সদস্য এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সাত সদস্যের এই কমিটিগুলোতে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসন ও টাস্কফোর্সের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের নিজ এলাকায় সার বিতরণ নজরদারিতে রাখার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ডিলারদের রসিদ দিয়ে সার বিক্রি করতে হয়, তাই জনপ্রতিনিধিরা সজাগ থাকলে দুষ্কৃতিকারীরা অপতৎপরতা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin