সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত, রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি বিরোধীরা
- আপডেট সময় : ০২:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া ‘এসআইআর’ (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লি, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু এবং বিহারের পাটনায় এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত এই প্রক্রিয়া বাতিল ও সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেয়েছেন বিরোধী নেতারা।
নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোট টানা তিন দিন ধরে তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জোটের সংসদ সদস্যরা দিল্লির একটি ক্যাফেতে বৈঠক করে পরবর্তী আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করেন। এরপর তারা বাসে করে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে গিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের শুভবুদ্ধি উদয়ের জন্য তারা প্রার্থনা করবেন, যাতে তারা বুঝতে পারেন যে তাদের কর্মকাণ্ড দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। খাড়গে অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত করছে। এছাড়া ভোট চুরি, মূল্যবৃদ্ধি ও যুবসমাজের সংকটের বিষয়গুলোও তারা জনগণের সামনে তুলে ধরছেন।
এদিকে বুধবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবারের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে রাজপথে নামা কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ মোট ৯১ জনকে আটক করা হয়েছিল। সিপিআই সাংসদ পি. সন্তোষ কুমার জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং এতে জোটের বাইরে থাকা বিজু জনতা দলসহ (বিজেডি) বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনও শরিক হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ‘বেআইনি কর্মকাণ্ডের’ খতিয়ান তুলে ধরতে শুক্রবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করবে বিরোধীদের একটি প্রতিনিধিদল। প্রথমে ১৫ জন নেতার সাক্ষাতের আবেদন করা হলেও রাষ্ট্রপতি ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে অনুমতি দিয়েছেন। এই দলে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থাকার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বিহারের পাটনায় তেজস্বী যাদবের লোকভবন অভিযান কর্মসূচিকে ঘিরেও ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতেও এই আন্দোলনের তীব্রতা দেখা গেছে। সেখানে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত ফ্রিডম পার্কের সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। সমাবেশ থেকে ‘নরেন্দ্র মোদি ভোট চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অভিনেতা ও সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নয়, এটি নাগরিকদের মর্যাদা ও অধিকারের ওপর আঘাত। সমাবেশে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠী, জেএনইউ-এর ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষ, আইসার সভানেত্রী নেহা বোরাসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে একটি ‘গণ-আদালত’ আয়োজন করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ শোনা হয় এবং পরে একটি ‘চপ্পল প্রতিবাদ’ কর্মসূচি পালিত হয়।



























