চরফ্যাশনে অসময়ে তরমুজ চাষে কৃষক মিজানের অভাবনীয় সাফল্য
- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে প্রচলিত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে অসময়ে তরমুজ চাষ করে বাজিমাত করেছেন স্থানীয় কৃষক মিজান। যখন চারপাশের কৃষকেরা ধান ও শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন, তখন মিজানের খেতে ঝুলছে রসালো তরমুজ। সবুজ লতার ফাঁকে ফাঁকে থরে থরে সাজানো এই তরমুজ দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি ও রসালো। অসময়ের এই ফলন দেখতে এবং কিনতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন তার খেতে।
সরেজমিনে মিজানের তরমুজ খেতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে সবুজ পাতার সমারোহ। লতার ভেতর থেকে সদ্য তোলা তরমুজ কেটে দেখা গেল তার ভেতরের অংশ টকটকে লাল শাঁসে ভরপুর। স্থানীয় বাজারে এই অসময়ের তরমুজের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে এবং ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষক মিজান তার এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগ সম্পর্কে জানান, শুরুতে অনেকেই এই সময়ে তরমুজ চাষ করা সম্ভব নয় বলে তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু তিনি দমে যাননি। ইন্টারনেট ও ইউটিউব ঘেঁটে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে অফ-সিজনের তরমুজ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। আল্লাহর রহমতে ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং বাজারে এর আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন তিনি। মিজান মনে করেন, সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের নির্দেশনা মেনে চললে অন্য কৃষকেরাও এভাবে অফ-সিজন তরমুজ চাষ করে লাভবান হতে পারবেন।
মিজানের এই অভাবনীয় সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষকই এখন অসময়ে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, অসময়ে বাজারে তরমুজের সরবরাহ কম থাকায় এর ভালো চাহিদা রয়েছে, যা চাষিদের জন্য বেশ লাভজনক।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা মিজানের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, মিজানের মতো উদ্যোক্তা কৃষকেরা দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছেন। অফ-সিজনে তরমুজ চাষ অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি উদ্যোগ। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মিজানকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।



























