ঢাকা ১১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রমজানে নিত্যপণ্যের সিন্ডিকেট রুখতে কঠোর হুঁশিয়ারি বাণিজ্যমন্ত্রীর গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ, ডিসেম্বরের আগেই সইয়ের আশা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল ৪৯ জনের বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় বেরোবির ৩ শিক্ষক ও ১ শিক্ষার্থী বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে স্থায়ী কমিটির সুপারিশ রংপুরে শিক্ষকসহ চার খুন: গ্রেপ্তার ২ আসামির ডিএনএ মিলেছে বিদেশযাত্রীদের জন্য ডলার কেনার সীমা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে রেললাইনে গাছ, স্থানীয়দের চেষ্টায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক চুয়াডাঙ্গায় ঝড়ে রেললাইনে গাছ, এক ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক দুর্গাপূজায় বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: নওগাঁর এসপি

বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ: রহস্যময় এই প্রাণীর বিস্ময়কর সব তথ্য

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রতি বছর ৮ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। সমুদ্রের প্রাচীন, রহস্যময় এবং অবিশ্বাস্যভাবে বুদ্ধিমান এই প্রাণীটির গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং সচেতনতা বাড়াতে ২০০৬ সালে দ্য সেফালোপড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ও সামুদ্রিক জীবপ্রেমীদের উদ্যোগে এই দিবসটি চালু হয়। গ্রিক শব্দ 'অকটো' থেকে অক্টোপাস ও অক্টোবর উভয় শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ আট। অক্টোপাসের আটটি বাহুর সঙ্গে মিল রেখেই বছরের অষ্টম মাসের অষ্টম দিনটিকে এই দিবসের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে অক্টোপাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা কাঁকড়া, চিংড়ি ও ছোট মাছ খেয়ে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করে, আবার নিজেরা বড় সামুদ্রিক মাছ ও তিমির খাদ্য হিসেবে অবদান রাখে। অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড, নীল রক্ত এবং হাড়বিহীন শরীর রয়েছে। এদের কেন্দ্রীয় মস্তিষ্কের পাশাপাশি প্রতিটি বাহুতে আলাদা স্নায়ুতন্ত্র বা মিনি-মস্তিষ্ক থাকে, ফলে প্রতিটি বাহু স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে। এরা দ্রুত গায়ের রং ও ত্বকের গঠন বদলে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আজ থেকে ২ হাজার ৪০০ বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম এই রং পরিবর্তনের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেন।

পৃথিবীর সব মহাসাগরে উষ্ণ জলে অক্টোপাস পাওয়া যায়। ডাইনোসরদের যুগেরও আগে, প্রায় ৩০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ১৪০০ প্রজাতির অক্টোপাস আছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অক্টোপাস বৃহত্তম প্রজাতি, যা ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হতে পারে, অন্যদিকে ডোয়ার্ফ বা বামন অক্টোপাস মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা হয়। বাংলাদেশেও অক্টোপাস ভ্যালগারিস, ক্যালিস্টোক্টোপাস ম্যাক্রোপাস, সিস্টোপাস ইন্ডিকাস ও অ্যামফিওক্টোপাস ফ্যাংসিয়াওসহ বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে অক্টোপাস ভ্যালগারিস ও ‘ওল্ড ওম্যান অক্টোপাস’ নামে পরিচিত সিস্টোপাস ইন্ডিকাস সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে। এরা মূলত বঙ্গোপসাগরের লোনা জলে, তলদেশের বেলে, কাদা মাটি, প্রবাল ও পাথুরে অঞ্চলে বাস করে এবং সুকৌশলে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

অক্টোপাসকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এরা ধাঁধা সমাধান করতে পারে, জটিল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় বুদ্ধির প্রমাণ দিয়েছে এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক শৈবাল বা খোলস ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করতে পারে। ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাসের প্রজনন আচরণ বেশ নাটকীয় ও ভয়ঙ্কর; গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী অক্টোপাসের প্রাণঘাতী ক্ষুধা থেকে বাঁচতে পুরুষ অক্টোপাস অনেক সময় সঙ্গীকে বিষ দিয়ে অবশ করে দেয়। ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ফ্যাবিও কোর্তেসি মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরের আইশা রাসকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রকৃতির নিয়মে স্ত্রী অক্টোপাস নিজের প্রজনন ও ডিম সুরক্ষার স্বার্থে অনেক সময় পুরুষটিকে খেয়ে ফেলে।

প্রতি বছর ৮ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব অক্টোপাস দিবস (World Octopus Day) পালিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব অক্টোপাস দিবস আজ: রহস্যময় এই প্রাণীর বিস্ময়কর সব তথ্য

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতি বছর ৮ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব অক্টোপাস দিবস। সমুদ্রের প্রাচীন, রহস্যময় এবং অবিশ্বাস্যভাবে বুদ্ধিমান এই প্রাণীটির গুরুত্ব তুলে ধরতে এবং সচেতনতা বাড়াতে ২০০৬ সালে দ্য সেফালোপড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল ও সামুদ্রিক জীবপ্রেমীদের উদ্যোগে এই দিবসটি চালু হয়। গ্রিক শব্দ 'অকটো' থেকে অক্টোপাস ও অক্টোবর উভয় শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ আট। অক্টোপাসের আটটি বাহুর সঙ্গে মিল রেখেই বছরের অষ্টম মাসের অষ্টম দিনটিকে এই দিবসের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে অক্টোপাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা কাঁকড়া, চিংড়ি ও ছোট মাছ খেয়ে সমুদ্রের ভারসাম্য রক্ষা করে, আবার নিজেরা বড় সামুদ্রিক মাছ ও তিমির খাদ্য হিসেবে অবদান রাখে। অক্টোপাসের তিনটি হৃৎপিণ্ড, নীল রক্ত এবং হাড়বিহীন শরীর রয়েছে। এদের কেন্দ্রীয় মস্তিষ্কের পাশাপাশি প্রতিটি বাহুতে আলাদা স্নায়ুতন্ত্র বা মিনি-মস্তিষ্ক থাকে, ফলে প্রতিটি বাহু স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে পারে। এরা দ্রুত গায়ের রং ও ত্বকের গঠন বদলে পরিবেশের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। আজ থেকে ২ হাজার ৪০০ বছর আগে গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল সর্বপ্রথম এই রং পরিবর্তনের বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেন।

পৃথিবীর সব মহাসাগরে উষ্ণ জলে অক্টোপাস পাওয়া যায়। ডাইনোসরদের যুগেরও আগে, প্রায় ৩০ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব রয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ১৪০০ প্রজাতির অক্টোপাস আছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অক্টোপাস বৃহত্তম প্রজাতি, যা ৬০০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন হতে পারে, অন্যদিকে ডোয়ার্ফ বা বামন অক্টোপাস মাত্র দুই ইঞ্চি লম্বা হয়। বাংলাদেশেও অক্টোপাস ভ্যালগারিস, ক্যালিস্টোক্টোপাস ম্যাক্রোপাস, সিস্টোপাস ইন্ডিকাস ও অ্যামফিওক্টোপাস ফ্যাংসিয়াওসহ বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে অক্টোপাস ভ্যালগারিস ও ‘ওল্ড ওম্যান অক্টোপাস’ নামে পরিচিত সিস্টোপাস ইন্ডিকাস সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে। এরা মূলত বঙ্গোপসাগরের লোনা জলে, তলদেশের বেলে, কাদা মাটি, প্রবাল ও পাথুরে অঞ্চলে বাস করে এবং সুকৌশলে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করে।

অক্টোপাসকে পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়। এরা ধাঁধা সমাধান করতে পারে, জটিল বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় বুদ্ধির প্রমাণ দিয়েছে এবং বিভিন্ন সামুদ্রিক শৈবাল বা খোলস ব্যবহার করে আত্মরক্ষা করতে পারে। ব্লু-লাইন্ড অক্টোপাসের প্রজনন আচরণ বেশ নাটকীয় ও ভয়ঙ্কর; গবেষণায় দেখা গেছে, স্ত্রী অক্টোপাসের প্রাণঘাতী ক্ষুধা থেকে বাঁচতে পুরুষ অক্টোপাস অনেক সময় সঙ্গীকে বিষ দিয়ে অবশ করে দেয়। ইউনিভার্সিটি অফ কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ফ্যাবিও কোর্তেসি মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরের আইশা রাসকোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে জানান, প্রকৃতির নিয়মে স্ত্রী অক্টোপাস নিজের প্রজনন ও ডিম সুরক্ষার স্বার্থে অনেক সময় পুরুষটিকে খেয়ে ফেলে।

প্রতি বছর ৮ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব অক্টোপাস দিবস (World Octopus Day) পালিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh