মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনে গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় একটি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নজরদারি ও ট্র্যাকিং তথ্যের সরকারি প্ল্যাটফর্ম স্পেস ট্রাকার এই বার্তাটি পাঠায়। এতে জানানো হয়, ভারতের ইনস্যাট-১এ নামের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১)-এর দিকে এগিয়ে আসছে। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (আইএসআরও) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ১০ এপ্রিল উৎক্ষেপিত ইনস্যাট-১এ স্যাটেলাইটটি সে বছরের ৬ সেপ্টেম্বর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল।
মহাকাশে এ ধরনের ধ্বংসাবশেষ বা স্পেস ডেব্রিসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুতর। ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অকেজো স্যাটেলাইট কসমস-২২৫১ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সচল যোগাযোগ স্যাটেলাইট ইরিডিয়াম-৩৩-এর সংঘর্ষে দুটি স্যাটেলাইটই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে বিএসসিএলের প্রকৌশলীরা গাজীপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে পরবর্তী চার দিন চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটান।
রাজধানীর বাংলামোটরে বিএসসিএল কার্যালয়ে বুধবার সকালে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই কয়েকটি দিন খুবই উদ্বেগের মধ্যে কেটেছে। হাতে সময় কম ছিল এবং বিএস-১ কে সরানোর সুযোগও ছিল সীমিত। তিনি বলেন, স্যাটেলাইটটি নতুন কোনো অবস্থানে নিলে ঝুঁকি তৈরি হবে কি না, তা–ও হিসাব করতে হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট প্রকৌশলীরা বিএস-১ কে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধ্বংসাবশেষটি বিএস-১–এর ৮৫২ মিটারের মধ্যে চলে এসেছিল। ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার হওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমার স্কুল অব কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান বলেন, মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো শুধু স্যাটেলাইট সরিয়ে নেওয়ার বিষয় নয়; এর জন্য দ্রুত ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপদ কক্ষপথ পরিবর্তনের হিসাব এবং সীমিত জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়। বাংলাদেশি প্রকৌশলীরা অল্প সময়ের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি বিশ্লেষণ, যাচাই ও বাস্তবায়ন করেছেন, যা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমানও এই সফলতাকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
২০১৮ সালের ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। বিএসসিএল সূত্র বলছে, সংঘর্ষের ঝুঁকির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০২১ সালে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ এবং ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্যাটেলাইটের কারণেও বিএস-১ ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
২০২১ সাল থেকে বিএসসিএল নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গাজীপুরের জয়দেবপুরে অবস্থিত গ্রাউন্ড স্টেশনে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলী ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে কাজ করেন। বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিলেন। বর্তমানে স্যাটেলাইটটির ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২০টি বাংলাদেশের জন্য এবং ২০টি দেশের বাইরের জন্য ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখছে।




























