ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাংবাদিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র দেওয়া বাধ্যতামূলক: প্রেস কাউন্সিল ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৬৫, মামলা ৭৩ কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ দেশে ২ কোটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা, লক্ষ্য আরও ৩৫ লাখ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি ভাঙ্গুড়ায় নৈশ প্রহরী পদে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সিসিটিভিতে ধরা পড়ল প্রিজন ভ্যান থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর দৃশ্য বাংলাদেশ সফরে আসছেন জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শহীদ মনোযোগের রাশ কার হাতে, আপনার নাকি ফোনের স্ক্রিনের? যুক্তরাষ্ট্রে ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকর হবে সাবেক মেজরের মৃত্যুদণ্ড

পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পুরান ঢাকার জনসন রোডের ইট-পাথরের ব্যস্ত এলাকায় বুনো পাখিদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তিনতলা ভবনের ১১ হাজার বর্গফুটের ফাঁকা ছাদে তৈরি করা হয়েছে ‘আকাশনীড়’ নামের একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান। শহুরে কোলাহলের মাঝে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ফিরিয়ে আনাই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘আকাশনীড়’ ছাদবাগানের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সহায়তায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে নগর সবুজায়নে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন সেভার্স’।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম জানান, গত ২২ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর সোলার প্যানেল বসানোর জন্য তিনি ভবনের ছাদে যান। সেখানে বিশাল ফাঁকা ছাদ এবং আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে তাঁর মাথায় পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরির চিন্তা আসে। শৈশবে গ্রামে পাখির ডাক শুনে বড় হওয়া ফরিদা খানম চান, যান্ত্রিক এই শহরেও যেন পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আবার ফিরে আসে।

‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানে সাজানো এই ছাদবাগানে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৯টি ফুলের এবং ৪১টি ফলের গাছ। ফুলের তালিকায় রয়েছে বাগানবিলাস, রঙ্গন, টগর, অঞ্জলিকা, হাসনাহেনা, মধুমালতী, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, কদম, কামিনী, জবা, রাধাচূড়া, বকুল, কাঠগোলাপ, গন্ধরাজ, মেলাপুটিয়া, নয়নতারা, গোলাপ, কলাবতী, ছাতিম ও নাগলিঙ্গম। এছাড়া জলজ ফুলের মধ্যে রয়েছে শাপলা ও পদ্ম। ফলের গাছের মধ্যে রয়েছে লিচু, কামরাঙা, সফেদা, আম, পেয়ারা, জামরুল, করমচা, জলপাই, লটকন, আমড়া, লেবু, বড়ই, কলা, পেঁপে, চেরি ও মালবেরি। পাশাপাশি রয়েছে ওষধি নিমগাছ এবং কীটপতঙ্গ আকর্ষণকারী নাগাচুয়া, পমেলিয়া, পান্তপাদক, এরিকা, চায়না ডল, সাইকাস ও পাতাবাহার বাঁশ অর্নামেন্টালের মতো গাছপালা।

পাখিদের আকৃষ্ট করতে ছাদে কিছু খাঁচাবন্দি পাখিও রাখা হয়েছে, যাদের ডাক শুনে বাইরের বুনো পাখিরা এখানে আসতে উৎসাহিত হবে। এছাড়া পাখিদের জলকেলি ও তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ছোট জলাধার, বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির বাসা এবং বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রিন সেভার্সের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তিন মাসের একটি চুক্তি হয়েছে। এই সময়ে গ্রিন সেভার্সের কর্মীরা বাগানটির পরিচর্যা করবেন এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব কর্মীরা এর দায়িত্ব নেবেন। গ্রিন সেভার্সের প্রধান নির্বাহী আহসান রনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান, যা প্রমাণ করে যে নাগরিকরা চাইলেই নিজ নিজ ছাদকে পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এটি অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি দারুণ উদাহরণ হতে পারে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা জানান, এই এলাকায় অন্য সময় পাখি, বেজি, খরগোশ, কাঠবিড়ালি ও বানরের দেখা মেলে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছাদে গিয়ে কোনো পাখির দেখা না মিললেও একটি বানরকে নির্ভয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। তবে আশপাশের ফুল-ফলের গাছগুলো আরও বড় হলে এবং ফল ধরলে পাখিদের আনাগোনা নিয়মিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পাঠানো ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু পাখি এসে ছাদে খাবার খাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও এমন ছাদবাগান গড়ে উঠলে শহরের পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’

আপডেট সময় : ১২:২৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

পুরান ঢাকার জনসন রোডের ইট-পাথরের ব্যস্ত এলাকায় বুনো পাখিদের জন্য এক অনন্য আশ্রয়স্থল গড়ে তুলেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তিনতলা ভবনের ১১ হাজার বর্গফুটের ফাঁকা ছাদে তৈরি করা হয়েছে ‘আকাশনীড়’ নামের একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান। শহুরে কোলাহলের মাঝে পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ ফিরিয়ে আনাই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিঞা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘আকাশনীড়’ ছাদবাগানের উদ্বোধন করেন। জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সহায়তায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছে নগর সবুজায়নে নিয়োজিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন সেভার্স’।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম জানান, গত ২২ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার পর সোলার প্যানেল বসানোর জন্য তিনি ভবনের ছাদে যান। সেখানে বিশাল ফাঁকা ছাদ এবং আকাশে পাখিদের ওড়াউড়ি দেখে তাঁর মাথায় পাখিদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরির চিন্তা আসে। শৈশবে গ্রামে পাখির ডাক শুনে বড় হওয়া ফরিদা খানম চান, যান্ত্রিক এই শহরেও যেন পাখিদের কিচিরমিচির শব্দ আবার ফিরে আসে।

‘পাখির রাজ্যে স্বাগতম’ স্লোগানে সাজানো এই ছাদবাগানে ৫৮ প্রজাতির মোট ৪১৮টি গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৯টি ফুলের এবং ৪১টি ফলের গাছ। ফুলের তালিকায় রয়েছে বাগানবিলাস, রঙ্গন, টগর, অঞ্জলিকা, হাসনাহেনা, মধুমালতী, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, কদম, কামিনী, জবা, রাধাচূড়া, বকুল, কাঠগোলাপ, গন্ধরাজ, মেলাপুটিয়া, নয়নতারা, গোলাপ, কলাবতী, ছাতিম ও নাগলিঙ্গম। এছাড়া জলজ ফুলের মধ্যে রয়েছে শাপলা ও পদ্ম। ফলের গাছের মধ্যে রয়েছে লিচু, কামরাঙা, সফেদা, আম, পেয়ারা, জামরুল, করমচা, জলপাই, লটকন, আমড়া, লেবু, বড়ই, কলা, পেঁপে, চেরি ও মালবেরি। পাশাপাশি রয়েছে ওষধি নিমগাছ এবং কীটপতঙ্গ আকর্ষণকারী নাগাচুয়া, পমেলিয়া, পান্তপাদক, এরিকা, চায়না ডল, সাইকাস ও পাতাবাহার বাঁশ অর্নামেন্টালের মতো গাছপালা।

পাখিদের আকৃষ্ট করতে ছাদে কিছু খাঁচাবন্দি পাখিও রাখা হয়েছে, যাদের ডাক শুনে বাইরের বুনো পাখিরা এখানে আসতে উৎসাহিত হবে। এছাড়া পাখিদের জলকেলি ও তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ছোট জলাধার, বাঁশের কৃত্রিম ঝোপঝাড়, পাখির বাসা এবং বড় ক্যানোপিযুক্ত গাছের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।

বাগানটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গ্রিন সেভার্সের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তিন মাসের একটি চুক্তি হয়েছে। এই সময়ে গ্রিন সেভার্সের কর্মীরা বাগানটির পরিচর্যা করবেন এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব কর্মীরা এর দায়িত্ব নেবেন। গ্রিন সেভার্সের প্রধান নির্বাহী আহসান রনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ছাদবাগান, যা প্রমাণ করে যে নাগরিকরা চাইলেই নিজ নিজ ছাদকে পাখিদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। এটি অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি দারুণ উদাহরণ হতে পারে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা জানান, এই এলাকায় অন্য সময় পাখি, বেজি, খরগোশ, কাঠবিড়ালি ও বানরের দেখা মেলে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ছাদে গিয়ে কোনো পাখির দেখা না মিললেও একটি বানরকে নির্ভয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। তবে আশপাশের ফুল-ফলের গাছগুলো আরও বড় হলে এবং ফল ধরলে পাখিদের আনাগোনা নিয়মিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পাঠানো ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কিছু পাখি এসে ছাদে খাবার খাচ্ছে। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও এমন ছাদবাগান গড়ে উঠলে শহরের পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo