ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ছাত্রদলের তিন নেতা বহিষ্কার দুর্গাপূজায় কেনাকাটার জন্য দোকানপাট খোলা থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত দুর্গাপূজায় দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখার সময় বাড়ল ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা প্রথম বিভাগ হকি লিগ রাজনৈতিক মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ, কারাগারে শ্রমিক ও যুবদল নেতা খুলনায় দেড় মাসের ব্যবধানে বাবা-ছেলে খুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী শ্যামনগরে স্কাউটিং বিষয়ক ৬৯৫ তম ওরিয়েন্টেশন কোর্স সম্পন্ন ঢাবি হলের নয়তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েও প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থী দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা এশিয়ার বাজারে তেলের দামে বড় ছাড় দিলো সৌদি আরব

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন নতুন কমিটি গঠন এবং এর শীর্ষ পদের নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে।

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্বে কি পুরোনো নেতারাই ফিরে আসবেন, নাকি সম্পূর্ণ নতুন মুখ দেখা যাবে—এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিলুপ্ত কমিটির ১ নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের অন্যতম দাবিদার। তিনি মনে করেন, বিলুপ্ত কমিটির মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়া উচিত। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে শীর্ষ পদে একেবারে নতুন কাউকে আনার পক্ষে নন তিনি। আনোয়ারুজ্জামান নিজেকে বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করলেও আমিনুলের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, বিগত আন্দোলনে আমিনুলের ভূমিকা ভালো ছিল এবং তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পেরেছিলেন।

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও আমিনুল হককে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, কমিটিতে যেন কোনো 'হাইব্রিড' বা সুবিধাবাদী ব্যক্তি ঢুকতে না পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। দুর্দিনের সক্রিয় কর্মীদের খুঁজে বের করে মহানগরের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর (যিনি বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন) জানান, নতুন কমিটি নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা তিনি শোনেননি। তবে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীত ভূমিকাকে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, মাঠের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। প্রয়োজনে তৃণমূলের মতামত যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় নেতা-কর্মীদের আচরণে দলের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ভাবমূর্তি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নেতা-কর্মীদের 'আলিফের মতো সোজা' হয়ে থাকতে হবে, কারণ তাদের যেকোনো ভুলের দায় সরকারের ওপর গিয়ে পড়ে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, অতীতে লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন আন্দোলন; কিন্তু এখন জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা ও জনগণের সমর্থন ধরে রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর ছয় দিন পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং ১৪ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না; যুবদল ও ছাত্রদলের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের কথা বলা হয়েছিল। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়মে কমিটি ভাঙা হয়েছে এবং দ্রুতই নতুন কমিটি দেওয়া হবে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারাও জানিয়েছেন, দুর্নামহীন ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রথমে ৬ সদস্য নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরে ২৬ নভেম্বর তা ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত করা হয়, যেখানে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পাশাপাশি ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৬ জন সদস্য ছিলেন। এই কমিটি গঠনের প্রায় ২২ মাস পর তা বিলুপ্ত করা হলো। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি সূত্র আভাস দিয়েছে যে, নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসছেন

আপডেট সময় : ০৫:২৮:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখন নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। শীর্ষ নেতৃত্বে কি পুরোনো নেতারাই ফিরে আসবেন, নাকি সম্পূর্ণ নতুন মুখ দেখা যাবে—এ নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিলুপ্ত কমিটির ১ নম্বর সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের অন্যতম দাবিদার। তিনি মনে করেন, বিলুপ্ত কমিটির মধ্য থেকেই যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নেওয়া উচিত। ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতাদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে শীর্ষ পদে একেবারে নতুন কাউকে আনার পক্ষে নন তিনি। আনোয়ারুজ্জামান নিজেকে বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করলেও আমিনুলের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা করে বলেন, বিগত আন্দোলনে আমিনুলের ভূমিকা ভালো ছিল এবং তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পেরেছিলেন।

বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউসুফও আমিনুল হককে সভাপতি করে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি বলেন, কমিটিতে যেন কোনো 'হাইব্রিড' বা সুবিধাবাদী ব্যক্তি ঢুকতে না পারেন, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে। দুর্দিনের সক্রিয় কর্মীদের খুঁজে বের করে মহানগরের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে, ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর (যিনি বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন) জানান, নতুন কমিটি নিয়ে নীতিনির্ধারকেরা সিদ্ধান্ত নেবেন এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা তিনি শোনেননি। তবে তিনি নেতৃত্ব নির্বাচনে সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীত ভূমিকাকে বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, মাঠের পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হলে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। প্রয়োজনে তৃণমূলের মতামত যাচাইয়ের কথাও বলেন তিনি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় নেতা-কর্মীদের আচরণে দলের ভাবমূর্তি যেন ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় ভাবমূর্তি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নেতা-কর্মীদের 'আলিফের মতো সোজা' হয়ে থাকতে হবে, কারণ তাদের যেকোনো ভুলের দায় সরকারের ওপর গিয়ে পড়ে। এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, অতীতে লক্ষ্য ছিল শেখ হাসিনার পতন আন্দোলন; কিন্তু এখন জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা ও জনগণের সমর্থন ধরে রাখাই প্রধান চ্যালেঞ্জ।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এর ছয় দিন পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, উত্তর যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয় এবং ১৪ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। যদিও বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তিতে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি উল্লেখ ছিল না; যুবদল ও ছাত্রদলের ক্ষেত্রে মেয়াদ শেষের কথা বলা হয়েছিল। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়মে কমিটি ভাঙা হয়েছে এবং দ্রুতই নতুন কমিটি দেওয়া হবে। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারাও জানিয়েছেন, দুর্নামহীন ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রথমে ৬ সদস্য নিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছিল। পরে ২৬ নভেম্বর তা ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত করা হয়, যেখানে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের পাশাপাশি ১৩ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৩৬ জন সদস্য ছিলেন। এই কমিটি গঠনের প্রায় ২২ মাস পর তা বিলুপ্ত করা হলো। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কেন্দ্রিক একটি সূত্র আভাস দিয়েছে যে, নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে এবং কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo