নতুন ঋণ পেতে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের দ্বারে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

অর্থনীতির বিদ্যমান চাপ সামাল দিতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে বড় অংকের ঋণের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, রাজস্ব আদায়ে ধীরগতি, ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা এবং বাজেটের বাড়তি ব্যয়ের চাপে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন অর্থায়ন নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে আইএমএফ থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ পাওয়ার আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
চলতি অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ১৫ দিনের সফরে ঢাকায় আসছে আইএমএফের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ), বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করবেন প্রতিনিধিরা। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং নতুন ঋণ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
আইএমএফ বাংলাদেশের সংস্কার কর্মসূচির ওপর বিশেষ নজর রাখছে। সংস্থাটি এনবিআরের পাঠানো রাজস্ব পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে জানিয়েছে যে, আগামী অর্থবছরে রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল ও কর্মপরিকল্পনায় ঘাটতি রয়েছে। এনবিআরের প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরে কোন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা হবে, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশনে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। এ কারণে আইএমএফ প্রতিবেদনটিকে পূর্ণাঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করেনি এবং এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। মিশন ঢাকায় আসার আগেই অর্থ বিভাগ এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করে রাজস্ব পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার চেষ্টা করছে।
ব্যাংক খাতের সংস্কার এবারের আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে আইএমএফ তাদের আগের অবস্থানই বহাল রেখেছে। গত জুলাইয়ে ঢাকা সফর শেষে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ব্যাংকিং খাতে চাপ বেশি এবং পুনর্গঠনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য কৌশল প্রয়োজন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার সংস্কার নিয়েও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।
আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে সামনে রেখে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি ডলারের নতুন ঋণ চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকেও বাজেট সহায়তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, খাদ্য, সার আমদানি এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করা, যাতে আগামী বছরের শুরুতে প্রথম কিস্তি পাওয়া সম্ভব হয়।
অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ নতুন এই কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, শুধু ঋণ পেলেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটবে না। তিনি বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রমে গতি কম এবং এনবিআরের পৃথকীকরণেও অগ্রগতি নেই। ঋণের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হবে এবং রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত কীভাবে বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।





























