ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মালয়েশিয়ায় পাহাড়ধসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার বাকেরগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ঐতিহাসিক কলসকাঠী শিবমন্দির সংরক্ষণের দাবি সৈয়দপুরে উর্দুভাষীদের লংমার্চ, স্থায়ী পুনর্বাসনসহ ৪ দফা দাবি ২৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম সমাবর্তন, থাকবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ১০০ শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী দেশের ৪০ লাখ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বাংলা কিউআর সেবা চালু চলনবিলে দেশি মাছের আকাল, সংকটে শুঁটকি চাতাল নওগাঁয় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ভ্যানচালক নিহত, যাত্রী গুরুতর আহত আগামী ২৯শে নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ডাক দিলেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী স্যানচেজ

চলনবিলে দেশি মাছের আকাল, সংকটে শুঁটকি চাতাল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় দেশি প্রজাতির মাছের তীব্র সংকটের কারণে চরম উদ্বেগে পড়েছেন শুঁটকি চাতাল ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর এই সময়ে চাতালগুলো শুঁটকি তৈরির কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকলেও এবার পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন শুঁটকি চাতালে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা পড়ে আছে চাতালের অধিকাংশ জায়গা। অল্প কিছু মাছে চলছে শুকানোর কাজ। স্থানীয় বিল, নদী, খাল ও জলাশয় থেকে সংগৃহীত শোল, বোয়াল, টাকি, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, বেলে, চিংড়ি, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চান্দা, কাচকি, বাইম, বাতাসি, ফলি ও আইড়সহ বিভিন্ন দেশি মাছ দিয়ে এখানে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এসব মাছ পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত করে লবণ দিয়ে বাঁশের চাতালে রোদে শুকানো হয়। উৎপাদিত এই শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী আনিছ জানান, প্রতি বছর এ মৌসুমে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। তারা শোল, টাকি, পুঁটি, টেংরা, কাচকি ও চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করতেন। কিন্তু এবার মাছের সরবরাহ যেমন কম, তেমনি দামও অনেক বেশি। ফলে আগের মতো শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, দেশি মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সলঙ্গা ও উল্লাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী এই শুঁটকি শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন চাতাল শ্রমিকরা। খাদিজা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ পরিষ্কার, কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। সেই পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চলত। কিন্তু এখন মাছের আকালে কাজ না থাকায় প্রায়ই বসে থাকতে হচ্ছে। আরেক শ্রমিক সোবাহান বলেন, প্রতি বছর এই মৌসুমে সকাল-সন্ধ্যা চাতালে কাজ করে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতেন। এবার কাজ কমে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল, খাল ও জলাশয় রক্ষা করার পাশাপাশি অবৈধ জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, দেশি প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ, পোনা মাছ রক্ষা এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চলনবিলে দেশি মাছের আকাল, সংকটে শুঁটকি চাতাল

আপডেট সময় : ০২:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকায় দেশি প্রজাতির মাছের তীব্র সংকটের কারণে চরম উদ্বেগে পড়েছেন শুঁটকি চাতাল ব্যবসায়ীরা। প্রতি বছর এই সময়ে চাতালগুলো শুঁটকি তৈরির কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকলেও এবার পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে লোকসানের মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা।

সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন শুঁটকি চাতালে গিয়ে দেখা যায়, ফাঁকা পড়ে আছে চাতালের অধিকাংশ জায়গা। অল্প কিছু মাছে চলছে শুকানোর কাজ। স্থানীয় বিল, নদী, খাল ও জলাশয় থেকে সংগৃহীত শোল, বোয়াল, টাকি, শিং, মাগুর, কৈ, পাবদা, টেংরা, বেলে, চিংড়ি, পুঁটি, মলা, ঢেলা, চান্দা, কাচকি, বাইম, বাতাসি, ফলি ও আইড়সহ বিভিন্ন দেশি মাছ দিয়ে এখানে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এসব মাছ পরিষ্কার ও প্রক্রিয়াজাত করে লবণ দিয়ে বাঁশের চাতালে রোদে শুকানো হয়। উৎপাদিত এই শুঁটকি দেশের বিভিন্ন জেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি করা হয়ে থাকে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী আনিছ জানান, প্রতি বছর এ মৌসুমে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। তারা শোল, টাকি, পুঁটি, টেংরা, কাচকি ও চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ কিনে শুঁটকি তৈরি করতেন। কিন্তু এবার মাছের সরবরাহ যেমন কম, তেমনি দামও অনেক বেশি। ফলে আগের মতো শুঁটকি উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, দেশি মাছের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে সলঙ্গা ও উল্লাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী এই শুঁটকি শিল্প আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।

মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন চাতাল শ্রমিকরা। খাদিজা নামের এক নারী শ্রমিক জানান, আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ পরিষ্কার, কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে হতো। সেই পারিশ্রমিক দিয়ে সংসার চলত। কিন্তু এখন মাছের আকালে কাজ না থাকায় প্রায়ই বসে থাকতে হচ্ছে। আরেক শ্রমিক সোবাহান বলেন, প্রতি বছর এই মৌসুমে সকাল-সন্ধ্যা চাতালে কাজ করে ছেলে-মেয়ের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালাতেন। এবার কাজ কমে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, মাছের উৎপাদন বাড়াতে বিল, খাল ও জলাশয় রক্ষা করার পাশাপাশি অবৈধ জাল দিয়ে পোনা মাছ ধরা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, দেশি প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ, পোনা মাছ রক্ষা এবং মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh