ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় গ্রেপ্তার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা আ.লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন ঢাকার আদালত থেকে ফের কৌশলে পালালেন খুনের আসামি শরিফুল রাজশাহীতে উদ্ধার হওয়া রেবন্তর বিরল মূর্তিসহ ২৬ প্রত্নসম্পদ জাদুঘরে ইউক্রেনের ওলেশকিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র অভাব নড়াইলে মাদক নিয়ে বিরোধে পাঁচ মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা শিশুদের শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের নাটোরের নলডাঙ্গায় নারী উদ্যোক্তাকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেফতার ১ জাহাজ শিল্পের জটিলতা কমাতে দ্রুত টিএসডিএফ স্থাপনের নির্দেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক মীমাংসা কঠিন, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাঙামাটিতে হাসিনা বেগম হত্যায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গোপালগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব সাত সদস্যের পরিবার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত সদস্যের একটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়তুন বেগমের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও পাশের কাছারি ঘরে। স্থানীয়দের ধারণা, এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী জয়তুন বেগম জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুম ভেঙে তিনি বসতঘরের পাশের কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে গোপালগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বর্তমানে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জয়তুন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতে মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই। আমার পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।” পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য মামুন মোল্লাও এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, নিজেদের টাকায় পুনরায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই সরকারি সহায়তাই তাদের একমাত্র ভরসা।

রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর স্থানে কেবল ছাই, পোড়া টিন ও কাঠের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, “আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি জেনেছি। আমি খুবই মর্মাহত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সহায়তা পাবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপালগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব সাত সদস্যের পরিবার

আপডেট সময় : ১০:১৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাত সদস্যের একটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জয়তুন বেগমের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও পাশের কাছারি ঘরে। স্থানীয়দের ধারণা, এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটির ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী জয়তুন বেগম জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুম ভেঙে তিনি বসতঘরের পাশের কাছারি ঘরে আগুন দেখতে পান। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে গোপালগঞ্জ শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌঁছানোর আগেই তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

বর্তমানে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জয়তুন বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের খাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। রাতে মাথা গোঁজারও কোনো জায়গা নেই। আমার পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই নেই।” পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য মামুন মোল্লাও এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি জানান, নিজেদের টাকায় পুনরায় ঘরবাড়ি নির্মাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাই সরকারি সহায়তাই তাদের একমাত্র ভরসা।

রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর স্থানে কেবল ছাই, পোড়া টিন ও কাঠের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কৌশিক আহমেদ বলেন, “আগুনে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনাটি জেনেছি। আমি খুবই মর্মাহত। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন পাঠানোর ব্যবস্থা নেব। আশা করছি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সরকারি সহায়তা পাবে।”

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh