ঢাকা ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঋণের ভারে জর্জরিত খুলনার সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০ ১৫ বছরের চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে এএসআইসহ চারজন আটক ফোনে ‘নামতেছি’ বলে নিখোঁজ কাজল, স্বামীও আত্মগোপনে জন্মদিনে শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী হিমি সব নাগরিককে সমান সুযোগ দিতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী সিইসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত, রাষ্ট্রপতির মুখোমুখি বিরোধীরা বিদেশ যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দরে আটকে গেলেন মাহদী হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডাকঘরে সৌদি আরবের পার্সেল থেকে ১০ কেজি মালামাল উধাও

জিয়াউর রহমান হত্যা: ফরেনসিক তথ্যে নতুন মোড় মোজাফ্ফরের জিজ্ঞাসাবাদে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য-উপাত্ত নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর মেজর (অব.) মোজাফ্ফর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তার দুই সন্তান জন্ম নিলেও পরবর্তীতে তারা কীভাবে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট পেল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর মোজাফ্ফর কীভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন এবং কারা তাকে এই পদে বসিয়েছিল, তা তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তদন্তের অংশ হিসেবে মোজাফ্ফরের ব্যবহৃত অ্যাপল-২৫৯৫ মডেলের আইফোন জব্দ করা হয়। প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা ১৩ ও ১৪ই সেপ্টেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জব্দ করা আইফোন থেকে প্রায় ৪.৭০ গিগাবাইট লজিক্যাল এক্সট্রাকশন ডেটা বিশ্লেষণ করে ৩২৬টি কন্টাক্ট, ১৬৩টি কল হিস্ট্রি, ৪ হাজার ৯৬৯টি বার্তা এবং ১৬০টি চ্যাটরুমসহ বিপুল পরিমাণ মিডিয়া আর্টেফ্যাক্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মুছে ফেলা ৪০টি খুদে বার্তা ও একাধিক মিডিয়া লগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোজাফ্ফর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়, তবে প্রয়োজনে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফ্ফর স্বীকার করেছেন যে, তিনি রক্ষী বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি ধানমণ্ডিতে তার কোর্সমেটের বাসায় এবং অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অফিসারদের সংগঠন ‘রাওয়া ক্লাবে’ নিয়মিত আড্ডা দিতেন। শুরুতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, ফোনের অবস্থান একই স্থানে থাকার ডিজিটাল প্রমাণ দেখানো হলে তিনি পরে তা স্বীকার করেন। প্রসিকিউটর জোহা জানান, মোজাফ্ফর ভারতে পালিয়ে প্রথমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং পরে নিজেই কারখানা দেন। বাংলাদেশে ফিরে তিনি ফ্যালকন সিকিউরিটি লিমিটেড নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কাজ করেন, যার ব্যবস্থাপনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছিল। মোজাফ্ফরের গ্রেপ্তারের পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে ফেলা হয়।

তদন্ত সংস্থা মোজাফ্ফরের কাছে ১৯৮১ সালের ২৯শে মে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করেছে। মোজাফ্ফর জানান, তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উপ-সহকারী এডজুটেন্ট ও কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ছিলেন। সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় তিনি সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তার অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা তার কাছে অপারেশনের চেইন অব কমান্ড, অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সময় তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া ‘মেজর এএম নেসার উদ্দিন’ নামের ব্যক্তির সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, মোজাফ্ফরের বক্তব্যকে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, কল ডিটেইল রেকর্ড এবং মুছে ফেলা বার্তার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

জিয়াউর রহমান হত্যা: ফরেনসিক তথ্যে নতুন মোড় মোজাফ্ফরের জিজ্ঞাসাবাদে

আপডেট সময় : ০১:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য-উপাত্ত নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পর মেজর (অব.) মোজাফ্ফর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে তার দুই সন্তান জন্ম নিলেও পরবর্তীতে তারা কীভাবে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্ট পেল, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর মোজাফ্ফর কীভাবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেন এবং কারা তাকে এই পদে বসিয়েছিল, তা তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

তদন্তের অংশ হিসেবে মোজাফ্ফরের ব্যবহৃত অ্যাপল-২৫৯৫ মডেলের আইফোন জব্দ করা হয়। প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা ১৩ ও ১৪ই সেপ্টেম্বর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জব্দ করা আইফোন থেকে প্রায় ৪.৭০ গিগাবাইট লজিক্যাল এক্সট্রাকশন ডেটা বিশ্লেষণ করে ৩২৬টি কন্টাক্ট, ১৬৩টি কল হিস্ট্রি, ৪ হাজার ৯৬৯টি বার্তা এবং ১৬০টি চ্যাটরুমসহ বিপুল পরিমাণ মিডিয়া আর্টেফ্যাক্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মুছে ফেলা ৪০টি খুদে বার্তা ও একাধিক মিডিয়া লগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মোজাফ্ফর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়, তবে প্রয়োজনে তাকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফ্ফর স্বীকার করেছেন যে, তিনি রক্ষী বাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তিনি ধানমণ্ডিতে তার কোর্সমেটের বাসায় এবং অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী অফিসারদের সংগঠন ‘রাওয়া ক্লাবে’ নিয়মিত আড্ডা দিতেন। শুরুতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করলেও, ফোনের অবস্থান একই স্থানে থাকার ডিজিটাল প্রমাণ দেখানো হলে তিনি পরে তা স্বীকার করেন। প্রসিকিউটর জোহা জানান, মোজাফ্ফর ভারতে পালিয়ে প্রথমে কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং পরে নিজেই কারখানা দেন। বাংলাদেশে ফিরে তিনি ফ্যালকন সিকিউরিটি লিমিটেড নামে একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কাজ করেন, যার ব্যবস্থাপনায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা ছিল। মোজাফ্ফরের গ্রেপ্তারের পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট থেকে কর্মকর্তাদের নাম সরিয়ে ফেলা হয়।

তদন্ত সংস্থা মোজাফ্ফরের কাছে ১৯৮১ সালের ২৯শে মে থেকে ৩১শে মে পর্যন্ত চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন করেছে। মোজাফ্ফর জানান, তিনি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উপ-সহকারী এডজুটেন্ট ও কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল ছিলেন। সার্কিট হাউসে যাওয়ার সময় তিনি সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের সময় তার অস্ত্র প্রয়োগ করা হয়েছিল। তদন্তকারীরা তার কাছে অপারেশনের চেইন অব কমান্ড, অস্ত্রের উৎস এবং ঘটনার সময় তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। এছাড়া ফরেনসিক পরীক্ষায় পাওয়া ‘মেজর এএম নেসার উদ্দিন’ নামের ব্যক্তির সঙ্গে তার হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, মোজাফ্ফরের বক্তব্যকে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট, কল ডিটেইল রেকর্ড এবং মুছে ফেলা বার্তার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin