ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেতৃত্ব হারালেন সালমান, পাকিস্তানের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফারহান সাবরেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু করল মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর: প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার সমীকরণ এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকার বাধ্য হয়েছে: উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান যুদ্ধাপরাধ আদালতের ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগে কসোভোয় পুলিশ-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ তায়কোয়ানডো চ্যাম্পিয়নশিপে সাতক্ষীরার জয়জয়কার: ৩ স্বর্ণসহ ৪ পদক সরকারি কর্মকর্তাদের ৪২ ধরনের ভাতা করমুক্ত, করযোগ্য মাত্র ৩টি আয় পুরান ঢাকার ডিসি অফিসের ছাদে পাখিদের অভয়ারণ্য ‘আকাশনীড়’ ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস, বন্ধ থাকবে ক্লাস ও অফিস ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

উচ্ছেদের পর ফাঁকা মিরপুর ১০-এর ফুটপাত, স্বস্তিতে পথচারীরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের চেনা রূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানের পর সেখানকার সড়ক ও ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। একসময়ের ব্যস্ত ও হকারদের দখলে থাকা ‘হোপ মার্কেট’ এলাকায় এখন আর কোনো অস্থায়ী দোকানপাট বা ভাসমান বিক্রেতার চিহ্ন নেই। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়কের পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রিকশা থেকে নামেন শেওড়াপাড়ার একটি ছাত্রীনিবাসে থাকা সুরাইয়া মিম ও নওশীন জাহান নামের দুই শিক্ষার্থী। হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে এসে কোনো দোকানপাট না দেখে তাঁরা অবাক হন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর জানা না থাকায় কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ করলেও ফুটপাতের এমন ফাঁকা ও সুন্দর পরিবেশ দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। সুরাইয়া মিম বলেন, আগে বোঝার উপায় ছিল না যে এই সড়কটি এত প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত রয়েছে। নওশীন জাহানও যোগ করেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দখলের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কতটা কষ্ট হতো, তা এখনকার ফাঁকা অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।

বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই, ফুটপাতও সম্পূর্ণ ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও উধাও। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ফুটপাত দিয়ে চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে হাঁটছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় থাকেন। আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় ছিল না। এখন কোনো ঝক্কি ছাড়াই ছেলে নিজে নিজেই হাঁটতে পারছে। পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামও তাঁর স্বস্তির কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন, এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি পাচ্ছেন। এই ফুটপাত ও সড়ক যেন আর কখনো অবৈধ দখলদারদের কবলে না পড়ে, সে জন্য সিটি করপোরেশনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান তিনি।

এর আগে, গত বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযান চলাকালে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় গণমাধ্যমকর্মীরাও আহত হন। পরে দুপুরের দিকে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত সম্পূর্ণ অবমুক্ত করেন। এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর বড় অংশ হকারদের দখলে ছিল। বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা এসব দোকানে নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও খেলনাসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হতো। এছাড়া ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকান। সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো দোকান নেই, শুধু ভেঙে দেওয়া কাঠ ও ত্রিপলের কিছু অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

উচ্ছেদের পর ফাঁকা মিরপুর ১০-এর ফুটপাত, স্বস্তিতে পথচারীরা

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের চেনা রূপ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানের পর সেখানকার সড়ক ও ফুটপাত এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা। একসময়ের ব্যস্ত ও হকারদের দখলে থাকা ‘হোপ মার্কেট’ এলাকায় এখন আর কোনো অস্থায়ী দোকানপাট বা ভাসমান বিক্রেতার চিহ্ন নেই। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়কের পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। রিকশা থেকে নামেন শেওড়াপাড়ার একটি ছাত্রীনিবাসে থাকা সুরাইয়া মিম ও নওশীন জাহান নামের দুই শিক্ষার্থী। হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে এসে কোনো দোকানপাট না দেখে তাঁরা অবাক হন। উচ্ছেদ অভিযানের খবর জানা না থাকায় কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ করলেও ফুটপাতের এমন ফাঁকা ও সুন্দর পরিবেশ দেখে তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। সুরাইয়া মিম বলেন, আগে বোঝার উপায় ছিল না যে এই সড়কটি এত প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত রয়েছে। নওশীন জাহানও যোগ করেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দখলের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কতটা কষ্ট হতো, তা এখনকার ফাঁকা অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়।

বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই, ফুটপাতও সম্পূর্ণ ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও উধাও। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ফুটপাত দিয়ে চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে হাঁটছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদা বেগম। তিনি জানান, প্রায় দুই বছর ধরে ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় থাকেন। আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো উপায় ছিল না। এখন কোনো ঝক্কি ছাড়াই ছেলে নিজে নিজেই হাঁটতে পারছে। পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামও তাঁর স্বস্তির কথা জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন, এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি পাচ্ছেন। এই ফুটপাত ও সড়ক যেন আর কখনো অবৈধ দখলদারদের কবলে না পড়ে, সে জন্য সিটি করপোরেশনের নিয়মিত নজরদারির দাবি জানান তিনি।

এর আগে, গত বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযান চলাকালে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় গণমাধ্যমকর্মীরাও আহত হন। পরে দুপুরের দিকে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত সম্পূর্ণ অবমুক্ত করেন। এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর বড় অংশ হকারদের দখলে ছিল। বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ীভাবে গড়ে তোলা এসব দোকানে নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও খেলনাসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হতো। এছাড়া ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকান। সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল। বর্তমানে সেখানে কোনো দোকান নেই, শুধু ভেঙে দেওয়া কাঠ ও ত্রিপলের কিছু অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo