ইসরায়েলগামী বিমানে হামলাকারী ‘উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন: নেতানিয়াহু
- আপডেট সময় : ১০:২৪:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে প্রধান পাইলটকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নতুন দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তা বিধ্বস্ত করার চেষ্টাকারী সহকারী পাইলট ‘ইসলামপন্থী উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’ ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে তিনি এ কথা জানান।
নেতানিয়াহু জানান, হামলাকারী সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। গত বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা হয়। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর উড়োজাহাজটি হঠাৎ ১৭ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। ককপিটে থাকা প্রধান পাইলটকে সহকারী পাইলট ছুরিকাঘাত করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে যাত্রী ও ক্রুরা মিলে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেন। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যাত্রী ও ক্রুরা যখন হামলাকারীকে বেঁধে ফেলছিলেন, তখন তিনি ‘আমাকে মেরে ফেলো, আমাকে মেরে ফেলো’ বলে চিৎকার করছিলেন। এ থেকে তাঁর আত্মঘাতী হওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, হামলাকারীর অতীতে উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত হওয়ার তথ্যের সঙ্গে এ ঘটনা মেলালে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না তিনি।
এদিকে, ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য বা কর্মকাণ্ডের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। উড়োজাহাজটি আমিরাতে নিবন্ধিত হওয়ায় দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে। সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণের পর চিকিৎসকদের ছাড়পত্র পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান ও সহকারী পাইলট—দুজনকেই আমিরাতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পেছনে ইরানের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিয়ে এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আমিরাতের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘অত্যন্ত কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। ওমানের নাগরিক কীভাবে এই ফ্লাইটের পাইলট হিসেবে কাজ করছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বলেন, diplomatic সম্পর্কহীন দেশের পাইলটদের সাধারণত ইসরায়েলে প্রবেশের অনুমতি থাকে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ফাঁকফোকর’ ছিল এবং তা রোধে আমিরাত সরকারের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রক্তাক্ত ককপিট সামলে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন প্রধান পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছার। ভারতীয় এই পাইলটের সাহসিকতার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আমিরাতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। এছাড়া, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রাথমিক তদন্তেও উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।




























