ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাঙ্গাইলের চিকিৎসাসেবা জিম্মি স্বাচিপের দখলে, ব্যাহত জনস্বাস্থ্য আটঘরিয়ায় প্রবাসীর স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নোবিপ্রবির বাসচালককে মারধর ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২ ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন বিরাট কোহলি কলাপাড়ায় অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ বিগ বস বাংলার রান্নাঘরে নন্দিনী ও রাজবীরের তীব্র বাকবিতণ্ডা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে দুর্বৃত্তের গুলিতে ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ, আহত ৩ নিয়োগপত্র না পাওয়ায় শাহবাগে প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীদের বিক্ষোভ জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মানববন্ধন মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন: সোমবার থেকেই সেবা চালুর ঘোষণা

গাজায় ‘আরেকটি নাকবা’ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আব্বাসের আহ্বান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজায় ‘আরেকটি নাকবা’ বা ১৯৪৮ সালের মতো ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মতো পরিস্থিতি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক পূর্বধারণকৃত ভিডিও ভাষণে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নেওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর একটি পার করছে। তিনি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, অনাহার সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ করেন। তার ভাষ্যমতে, এসব পদক্ষেপ সেখানে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেন ঘুমন্ত মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ প্রতিষ্ঠার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ধাপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা যাতে স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন আব্বাস। তার অভিযোগ, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়ছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি ভূমি দখল, বাড়িঘর ভাঙা, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থীরা ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের উপনিবেশিক প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

আব্বাস তার ভাষণে প্রশ্ন তোলেন, কিছু দেশ কেন নীরব রয়েছে অথবা কেন ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দখলদারত্বের অবসান এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের দাবি জানান। সবশেষে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

গাজায় ‘আরেকটি নাকবা’ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আব্বাসের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজায় ‘আরেকটি নাকবা’ বা ১৯৪৮ সালের মতো ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির মতো পরিস্থিতি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক পূর্বধারণকৃত ভিডিও ভাষণে তিনি গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নেওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আব্বাস বলেন, ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়গুলোর একটি পার করছে। তিনি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ, অনাহার সৃষ্টি এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ করেন। তার ভাষ্যমতে, এসব পদক্ষেপ সেখানে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যেন ঘুমন্ত মানুষের ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি শিশুদের ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বেড়ে ওঠা বন্ধ করার আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ প্রতিষ্ঠার প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও দ্বিতীয় ধাপ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি ২০২৭ সালে শেষ হতে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা যাতে স্থায়ী বা অনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন আব্বাস। তার অভিযোগ, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়ছে এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি ভূমি দখল, বাড়িঘর ভাঙা, চেকপয়েন্ট স্থাপন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থীরা ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের উপনিবেশিক প্রকল্প সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

আব্বাস তার ভাষণে প্রশ্ন তোলেন, কিছু দেশ কেন নীরব রয়েছে অথবা কেন ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দখলদারত্বের অবসান এবং আন্তর্জাতিক প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের দাবি জানান। সবশেষে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংলাপ ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানান।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin