ঢাকা ১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যুর শঙ্কা: বিল গেটস সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান: ৩০ একর বনভূমি উদ্ধার, ৭ স্থাপনা উচ্ছেদ এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংঘর্ষ, আহত অনেকে পটিয়ায় কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টাইলস মিস্ত্রির মৃত্যু গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু, অভিযোগ কাতারের তজুমদ্দিনে মেঘনার তীব্র স্রোতে ট্রলার ডুবি, ৪ জেলে উদ্ধার পুলিশ প্রতিবেদনে বাদ আড়াই হাজার, ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীরা কোটালীপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবে বিশেষ কমিটি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:২২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নে দ্রুত এগোতে চায় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হবে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক করার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে। সনদের বাইরে জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে তাও কমিটি বিবেচনায় নেবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, একটি দল লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ হয়েছে। যারা এখনো আলোচনায় অংশ নেননি, তাদের জন্য কমিটির দরজা খোলা থাকবে। নিবন্ধিত কিংবা অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো প্রস্তাব লিখিতভাবে দিলে সেটিও বিবেচনা করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য কমিটির নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদের শুরুতেই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোও সনদে উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট' থাকলে তাও বিবেচনায় রাখা হবে।

বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা কিছু সাংবিধানিক প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থবছর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে বর্ষাকাল পড়ে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার কারণ হয়। বাংলাদেশের ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার জন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও সদস্য নির্বাচন বা প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বিএনপিকে ঘিরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সনদটি যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজন নেই, বর্তমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে এবং দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে তা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নাম নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে 'গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ' বা অনুরূপ নাম ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে, যা কমিটি নোটে রেখেছে। এছাড়া সংস্কার কমিশনের পুরোনো প্রস্তাবগুলো নতুন করে আলোচনায় আনলে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে গঠিত ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত, সেভাবেই বাস্তবায়ন করবে বিশেষ কমিটি

আপডেট সময় : ১২:২২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, ঠিক সেভাবেই তা বাস্তবায়নে দ্রুত এগোতে চায় সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। এই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হবে। কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে জাতীয় সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি বৈঠক করার চেষ্টা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারক ও বিচারপতি, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, জুলাই যোদ্ধা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতামত নেওয়া হবে। সনদের বাইরে জাতীয় জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিপূরক প্রস্তাব এলে তাও কমিটি বিবেচনায় নেবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী ২৬টি রাজনৈতিক দলকে মতবিনিময়ের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫টি দল সরাসরি প্রতিনিধি পাঠিয়েছে, একটি দল লিখিত বক্তব্য দিয়েছে এবং সব মিলিয়ে প্রায় ১৭টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ হয়েছে। যারা এখনো আলোচনায় অংশ নেননি, তাদের জন্য কমিটির দরজা খোলা থাকবে। নিবন্ধিত কিংবা অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কোনো প্রস্তাব লিখিতভাবে দিলে সেটিও বিবেচনা করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্য কমিটির নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদের শুরুতেই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আইন, অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলোও সনদে উল্লেখ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ভিন্নমত বা 'নোট অব ডিসেন্ট' থাকলে তাও বিবেচনায় রাখা হবে।

বৈঠকে নির্বাচনী ইশতেহারে থাকা কিছু সাংবিধানিক প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থবছর পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হওয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে বর্ষাকাল পড়ে, যা সরকারি অর্থের অপচয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার কারণ হয়। বাংলাদেশের ঋতুচক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থবছর পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার জন্য সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও সদস্য নির্বাচন বা প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে।

বিএনপিকে ঘিরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সনদটি যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রয়োজন নেই, বর্তমান সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব। বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে আনা হবে এবং দীর্ঘ আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তিতে তা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

বৈঠকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক নাম নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে 'গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ' বা অনুরূপ নাম ব্যবহারের প্রস্তাব এসেছে, যা কমিটি নোটে রেখেছে। এছাড়া সংস্কার কমিশনের পুরোনো প্রস্তাবগুলো নতুন করে আলোচনায় আনলে প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে গঠিত ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din