পাবনায় শিশু কলি হত্যার দ্রুত বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

পাবনায় ১০ বছর বয়সী শিশু কামরুন্নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী, স্বজন এবং নিহত শিশুটির সহপাঠীরা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা জেলা পরিষদের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বক্তারা ক্ষোভ ও গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, নিষ্পাপ শিশু কলিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে জড়িতদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মম পরিণতির শিকার হতে না হয়। এ সময় তারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি করে দোষীদের ফাঁসি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কলির সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “কলি হত্যার বিচার চাই”, “শিশু হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই” এবং “নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করুন”। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি আদালত এলাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কলি হত্যার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাবনার কুলুনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাতদিন পর, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় ১০ বছর বয়সী কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কুলুনিয়া গ্রামের মৃত আবদুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে মোস্তফা কামাল (৫৫) এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মৃত মোহাব্বত আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী (২১)। ইয়াছিন মূলত মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শিশু কলিকে ফুঁসলিয়ে একটি ঘরের ভেতর নিয়ে যান। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করার পর মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল।



























