ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিয়ে নিয়ে নিজের ভাবনা জানালেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল গাজায় নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে হাজারো ফিলিস্তিনি পরিবার জাপানের ভিসা নীতি: আতঙ্কিত না হয়ে নিয়ম মেনে চলাই জরুরি ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, নিন্দার ঝড় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সেপ্টেম্বর মাসের অভিযানে ১ কোটি টাকা জরিমানা পাকিস্তানে নতুন প্রদেশ গঠনের পরিকল্পনা, নেপথ্যে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি নোয়াখালীর সেনবাগে নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান, মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট প্রবাসীদের স্বার্থে কাজ করবে সরকার, দালালদের নয়: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নেত্রকোনায় বিদ্যালয়ের সভায় স্ত্রীকে থাপ্পড় দিলেন শিক্ষক, ভিডিও ভাইরাল গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান, আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক হোসেন

রামগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফাঁকা ঘরগুলো এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পরও অনেক উপকারভোগী এসব ঘরে থাকছেন না। কোথাও ঘর তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও অন্য ব্যক্তির কাছে ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাত নামলেই এসব ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় বহিরাগত ও অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রকল্পগুলোর প্রকৃত বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ে রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি স্থানে মোট ৩১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। দুই শতক জমিসহ এসব ঘর উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক যাচাই-বাছাই না করে রাজনৈতিক প্রভাব ও পছন্দের ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকৃত ভূমিহীনদের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৯৪টি ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৪৩ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। বাকি ঘরগুলোর বেশিরভাগই তালাবদ্ধ বা খালি পড়ে আছে এবং কিছু ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলা এলাকাটি শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা বসে।

একই চিত্র দেখা গেছে ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের গণেশের বাড়ির পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাড়া অধিকাংশ ঘরেই এখন অন্যরা বসবাস করছেন। এছাড়া ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের লামচর দিঘীর পাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ৩৭টি ঘর। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এখানে মাত্র ১৫ জন মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকছেন। ১৭টি ঘরে থাকছেন অন্য মানুষ এবং ৫টি ঘর সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই এসব খালি ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেখানকার নারী, শিশু ও বয়স্করা।

প্রকল্পের বাসিন্দা রৌশনারা বেগম, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহের ও ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয় অনেকে দ্রুত এসব ঘর পুনরায় যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, যারা বরাদ্দ পেয়েও ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হোক।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে অভিযান চালানো হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোতেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা ঘরে থাকছেন না, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রকৃত উপকারভোগী নন বা ঘরে থাকেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত উপযুক্ত ও ভূমিহীন ব্যক্তিদের ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

রামগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফাঁকা ঘরগুলো এখন মাদকসেবীদের আস্তানা

আপডেট সময় : ০৭:০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার পরও অনেক উপকারভোগী এসব ঘরে থাকছেন না। কোথাও ঘর তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে, আবার কোথাও অন্য ব্যক্তির কাছে ঘর ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাত নামলেই এসব ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় বহিরাগত ও অপরাধীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন প্রকল্পগুলোর প্রকৃত বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রথম থেকে তৃতীয় পর্যায়ে রামগঞ্জ উপজেলার ১০টি স্থানে মোট ৩১৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। দুই শতক জমিসহ এসব ঘর উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সঠিক যাচাই-বাছাই না করে রাজনৈতিক প্রভাব ও পছন্দের ব্যক্তিদের ঘর বরাদ্দ দেওয়ায় প্রকৃত ভূমিহীনদের একটি বড় অংশ পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় ফাঁকা ঘরগুলো এখন অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪ নম্বর ইছাপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ৯৪টি ঘর রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এর মধ্যে মাত্র ৪৩ জন বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি বর্তমানে সেখানে বসবাস করছেন। বাকি ঘরগুলোর বেশিরভাগই তালাবদ্ধ বা খালি পড়ে আছে এবং কিছু ঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলা এলাকাটি শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর ফাঁকা ঘর ও বারান্দায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডা বসে।

একই চিত্র দেখা গেছে ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের গণেশের বাড়ির পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাড়া অধিকাংশ ঘরেই এখন অন্যরা বসবাস করছেন। এছাড়া ৬ নম্বর লামচর ইউনিয়নের লামচর দিঘীর পাড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে রয়েছে ৩৭টি ঘর। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, এখানে মাত্র ১৫ জন মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি থাকছেন। ১৭টি ঘরে থাকছেন অন্য মানুষ এবং ৫টি ঘর সম্পূর্ণ খালি পড়ে রয়েছে। সন্ধ্যা হলেই এসব খালি ঘরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সেখানকার নারী, শিশু ও বয়স্করা।

প্রকল্পের বাসিন্দা রৌশনারা বেগম, সফিকুল ইসলাম, আবু তাহের ও ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয় অনেকে দ্রুত এসব ঘর পুনরায় যাচাই-বাছাই করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, যারা বরাদ্দ পেয়েও ঘরে থাকছেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হোক।

এ বিষয়ে রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এলাকায় নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে অভিযান চালানো হয়েছে। বাকি প্রকল্পগুলোতেও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান বলেন, বরাদ্দ পাওয়ার পরও যারা ঘরে থাকছেন না, তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রকৃত উপকারভোগী নন বা ঘরে থাকেন না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত উপযুক্ত ও ভূমিহীন ব্যক্তিদের ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh