ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

সরকার ও আওয়ামী লীগের আঁতাতের অভিযোগ জামায়াত নেতার, সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক খতিয়ান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকারের সবুজ সংকেত ও অনুমোদনেই সারা দেশে মিছিল করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দলটির এমন রাজনৈতিক তৎপরতার পেছনে সরকারের ইশারা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। এর আগে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়।

ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব ধরনের গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্বও সামলান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাটানোর পর ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ড থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন তিনি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বরে দুবার এবং ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এছাড়া ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এক মাস এবং ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বরও তিনি গৃহবন্দী হন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাবন্দী করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন, যার ফলে শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য নানা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার এবং দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম তাঁকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার দেয়। কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মাননা সনদ দেয়। পরিবেশ উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ এবং টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচির জন্য আইটিইউ তাঁকে ‘আইসিটি ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ এবং ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’। প্রযুক্তি, রান্না, গান ও বই পড়ার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁদের ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। আর মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী, যিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাতজন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, Bangladesh Jamaat-e-Islami

prothomalo-bangla/2026-09-12/ik0rdnsp/Golam-Porwer.jpeg

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকার ও আওয়ামী লীগের আঁতাতের অভিযোগ জামায়াত নেতার, সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক খতিয়ান

আপডেট সময় : ১২:১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকারের সবুজ সংকেত ও অনুমোদনেই সারা দেশে মিছিল করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর দলটির এমন রাজনৈতিক তৎপরতার পেছনে সরকারের ইশারা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। এর আগে ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। এছাড়া ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৮১ সাল থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়।

ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সব ধরনের গণ-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী শেখ হাসিনা তৎকালীন সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। তিনি ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতির দায়িত্বও সামলান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি কাজ করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও সে সময় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে দীর্ঘ ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে কাটানোর পর ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ড থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সূচনা করেন তিনি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়ে তিনি রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালেও তিনি বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শেখ হাসিনা বহুবার কারাবরণ ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে আটক করে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বরে দুবার এবং ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দী করে রাখা হয়। এছাড়া ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ দিন, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর থেকে এক মাস এবং ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বরও তিনি গৃহবন্দী হন। ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ১৬ জুলাই তাঁকে কারাবন্দী করা হয় এবং ২০০৮ সালের ১১ জুন তিনি মুক্তি পান। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসে। এর আগে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ডজনেরও বেশি আর্জেস গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেলেও আইভি রহমানসহ দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন, যার ফলে শেখ হাসিনার শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের জন্য নানা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট তাঁকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার এবং দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘শান্তির বৃক্ষ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম তাঁকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার দেয়। কৃষির উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদনে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মাননা সনদ দেয়। পরিবেশ উন্নয়নে অবদানের জন্য জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ এবং টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচির জন্য আইটিইউ তাঁকে ‘আইসিটি ইন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০১৫’ প্রদান করে।

শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ এবং ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’। প্রযুক্তি, রান্না, গান ও বই পড়ার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ রয়েছে। তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে মারা যান। তাঁদের ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ একজন তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। আর মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী, যিনি অটিস্টিক শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাতজন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, Bangladesh Jamaat-e-Islami

prothomalo-bangla/2026-09-12/ik0rdnsp/Golam-Porwer.jpeg

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo