ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হলেন নোমান মাহমুদ হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন দেবাশীষ রায় চৌধুরী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও বিদায় কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে একরাতে ৬২৪ জন আটক বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু

মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টিকে থাকতে খরচ ও সঞ্চয়ে সচেতনতা জরুরি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি। এর অর্থ হলো, এ বছর যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকার বেশি হবে। একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি, নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দামি পোশাক কেনার মতো বিলাসিতা কমানো প্রয়োজন। অযথা যেসব খরচ এড়িয়ে চলা সম্ভব, তা বাদ দিতে হবে।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়কে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যার ৫০ শতাংশ পরিবারের খরচ, ২০ শতাংশ পরিবারের বাইরের জরুরি ব্যয় এবং বাকি ৩০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস কেবল আর্থিক নয়, মানসিক সমস্যারও কারণ হতে পারে। লেখক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, একসময় তিনি ক্রেডিট কার্ডে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা শুধু রেস্টুরেন্টেই খরচ করতেন, যা ছিল একটি বাজে অভ্যাস।

বর্তমানে তিনি একটি বিশেষ নীতি মেনে চলেন। যদি খরচের নতুন কোনো খাত তৈরি হয়, তবে সেই খরচের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস তৈরির চেষ্টা করেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সেই খরচ এড়িয়ে চলেন। বিদ্যমান আয় থেকে নতুন কোনো বিলাসিতায় খরচ করা বোকামি। উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও তিনি একই যুক্তি দেন। একটি গাড়ি মানে মাসে লক্ষাধিক টাকার খরচ। তাই বাড়তি এক লক্ষ টাকা আয়ের পথ তৈরি করার পরই গাড়ি কেনা যৌক্তিক, অন্যথায় তা হাতি পোষার সমান।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রকৃত অর্থে তা কমে যায়। তাই হালাল ও লাভজনক বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে মুনাফার হার মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি হবে। আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকতে হলে কৃপণতা নয়, বরং হিসাবি হওয়া জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মুদ্রাস্ফীতির বাজারে টিকে থাকতে খরচ ও সঞ্চয়ে সচেতনতা জরুরি

আপডেট সময় : ১২:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি। এর অর্থ হলো, এ বছর যে জিনিসের দাম ১০০ টাকা, আগামী বছর তা ১০৯ টাকার বেশি হবে। একদিকে আয় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে ব্যয়। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ঘোরাঘুরি, নিয়মিত রেস্টুরেন্টে খাওয়া এবং দামি পোশাক কেনার মতো বিলাসিতা কমানো প্রয়োজন। অযথা যেসব খরচ এড়িয়ে চলা সম্ভব, তা বাদ দিতে হবে।

আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আয়কে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যার ৫০ শতাংশ পরিবারের খরচ, ২০ শতাংশ পরিবারের বাইরের জরুরি ব্যয় এবং বাকি ৩০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য রাখা উচিত। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত খরচের অভ্যাস কেবল আর্থিক নয়, মানসিক সমস্যারও কারণ হতে পারে। লেখক নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, একসময় তিনি ক্রেডিট কার্ডে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা শুধু রেস্টুরেন্টেই খরচ করতেন, যা ছিল একটি বাজে অভ্যাস।

বর্তমানে তিনি একটি বিশেষ নীতি মেনে চলেন। যদি খরচের নতুন কোনো খাত তৈরি হয়, তবে সেই খরচের জন্য বাড়তি আয়ের উৎস তৈরির চেষ্টা করেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে সেই খরচ এড়িয়ে চলেন। বিদ্যমান আয় থেকে নতুন কোনো বিলাসিতায় খরচ করা বোকামি। উদাহরণস্বরূপ, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও তিনি একই যুক্তি দেন। একটি গাড়ি মানে মাসে লক্ষাধিক টাকার খরচ। তাই বাড়তি এক লক্ষ টাকা আয়ের পথ তৈরি করার পরই গাড়ি কেনা যৌক্তিক, অন্যথায় তা হাতি পোষার সমান।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদের হার ৭ শতাংশ, যেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রকৃত অর্থে তা কমে যায়। তাই হালাল ও লাভজনক বিনিয়োগের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন, যেখানে মুনাফার হার মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কয়েক শতাংশ বেশি হবে। আগামী দিনগুলোতে টিকে থাকতে হলে কৃপণতা নয়, বরং হিসাবি হওয়া জরুরি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh