বিরোধী জোট দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: জহির উদ্দিন স্বপন
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক রাজপথে নিয়ে আসা এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ যখন কার্যকর রয়েছে, তখন আন্দোলনের নামে লংমার্চ সাধারণ মানুষের গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। রাজনৈতিক দলগুলো কতটুকু বুঝে এসব করছে তা জানা না থাকলেও, এ ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অপশক্তি ওতপেতে থাকে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের গত ১৮০ দিনের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা এবং দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচল অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংকট গভীর হওয়ায় রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভর ভুল নীতির কারণে এই খাত আজ হিমশিম খাচ্ছে। প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে আগের সরকারের ব্যর্থতাকে তিনি জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান সরকার বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।
সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে বলে জানান জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি আরও বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে। সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব।
বৈঠকে মানবাধিকারকর্মী শিরিন পারভীন হক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শক্তিশালী করার পাশাপাশি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে পুলিশি সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তার মতে, দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, জনগণের উচ্চাশা পূরণ এবং পদ্ধতিগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও কার্যকর ‘পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট’ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান প্রশাসনে আমলাতান্ত্রিক আধিপত্য দূর করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিরোধী দলের জন্য রাস্তায় নামার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, তাদের সংসদের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, আইন ও প্রবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাত শক্তিশালী করতে হবে এবং সংসদীয় কমিটিকে আরও জবাবদিহিমূলক করতে হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থের সঞ্চালনায় বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহাটি বলেন, তাদের গবেষণা অনুযায়ী নাগরিকরা সরকারকে আরও সময় দিতে প্রস্তুত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. এস এম আমানুল্লাহ তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ, সাবেক সচিব আবদুর রশীদ সরকারসহ আরও অনেকে সভায় বক্তব্য রাখেন। সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুল ইসলাম, এম শামসুল আলম লিটন, এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ড. মো. জিয়াউল ইসলাম মুন্না, মো. মাজহারুল হক পিপিএম, ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ, ড. শাহ মো. নিসতার জাহান কবীর, অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক, বোরহানউদ্দীন ইউসুফ, মো. সোহেল রানা, ড. গোলাম রসুল, ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম খান, মো. তানভীর হাবিব জুয়েল, সাদিক মাহবুব ইসলাম এবং চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।





























