ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি: বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন ও সংহতি নেপালে বন্যায় মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্গে জায়গা সংকট অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটকে বাংলাদেশ বড় বার্তা দিয়েছে: তালহা জুবায়ের ওআইসির নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হলেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ সৈয়দপুরে বাসের লকারে ২৪ কেজি গাঁজা, নারী গ্রেপ্তার আজ কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের জন্মদিন ৯/১১-কে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ না বলার নির্দেশ নিয়ে সিবিসির সমালোচনা ৭০ লাখ টাকায় নির্মিত অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য হালান্ড ও চেরকির জোড়া গোল, ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-১ ব্যবধানে ওড়াল ম্যানসিটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে মেটার নতুন নিয়ম

সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে শিক্ষক সংকট। দেশের অনেক কলেজে অনুমোদিত পদের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স বা বিষয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া শিক্ষকদের ওপর থাকা প্রশাসনিক দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজের চাপ শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তবে কেবল শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে এখনো প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। তাই শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সরকারি কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত গবেষণাগার ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বর্তমান যুগে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, কিন্তু অনেক কলেজে সেই পরিবেশ এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের পথে গবেষণা সংস্কৃতির অভাব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে গবেষণাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু অধিকাংশ সরকারি কলেজে গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে ওঠার সুযোগ কম থাকে।

এছাড়া সরকারি কলেজগুলোতে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক সনদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি। পাঠ্যক্রম ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না।

সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের গবেষণা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, আধুনিক গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ০৫আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ২২

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার মানোন্নয়নের চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৮:২৭:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে শিক্ষক সংকট। দেশের অনেক কলেজে অনুমোদিত পদের তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স বা বিষয়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা শিক্ষার গুণগত মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া শিক্ষকদের ওপর থাকা প্রশাসনিক দায়িত্ব, বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজের চাপ শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তবে কেবল শিক্ষক সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে শিক্ষাদানের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অথচ অনেক ক্ষেত্রে এখনো প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষার ধারা বিদ্যমান। তাই শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণার সুযোগ এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সরকারি কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক ল্যাবরেটরি, গ্রন্থাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপকরণের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত গবেষণাগার ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত। বর্তমান যুগে শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, কিন্তু অনেক কলেজে সেই পরিবেশ এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি।

উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের পথে গবেষণা সংস্কৃতির অভাব একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে গবেষণাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কিন্তু অধিকাংশ সরকারি কলেজে গবেষণার সুযোগ ও গবেষণা তহবিল অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে ওঠার সুযোগ কম থাকে।

এছাড়া সরকারি কলেজগুলোতে কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক সনদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন যোগাযোগ দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞান, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি। পাঠ্যক্রম ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান থাকায় অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পরও চাকরির বাজারে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারে না।

সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নে পাঁচটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের গবেষণা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। তৃতীয়ত, আধুনিক গ্রন্থাগার, গবেষণাগার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে।

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ০৫আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ২২

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh