নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানি: বাকৃবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন ও সংহতি
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় গভীর শোক ও সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) পরিবার। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পাশে আমতলায় এক মোমবাতি প্রজ্বালন ও এক মিনিট নীরবতা পালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় বাকৃবির ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেপালি শিক্ষার্থী, অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
স্মরণ সভার শুরুতে বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এরপর নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে নিজ দেশের বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও শোক প্রকাশ করেন নেপালি শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক ও আর্থিক সহায়তার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভেটেরিনারি অনুষদের নেপালি শিক্ষার্থী জারুরি পাচাই অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, তার জন্মভূমি নেপালে নেমে আসা এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু পরিবার এখন আশ্রয়হীন ও অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, যারা মারা গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে যারা বেঁচে আছেন তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে এখন বাস্তব সহায়তা প্রয়োজন। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে অনুদান বা সহায়তা তহবিল গঠনে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
আরেক নেপালি শিক্ষার্থী অ্যাঞ্জেল গুরুঙ বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান করার কারণে সরাসরি দেশের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব না হলেও তারা বিভিন্ন উপায়ে যোগাযোগ রাখছেন এবং সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। দুর্গতদের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই অনুষদের শিক্ষার্থী দিবাকাস কাফলে নেপালি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাকৃবি প্রশাসন ও ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলের মাধ্যমে সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান।
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম বলেন, নেপালের এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার সেদেশের সরকার ও বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের পাশে রয়েছে। বিশেষ করে বাকৃবিতে অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণও নেপালের এই দুর্যোগে সহমর্মিতা জানিয়েছে এবং যেকোনো ধরনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, নেপালের এই ভয়াবহ বন্যায় যে প্রাণহানি ঘটেছে, তাতে আমরা গভীরভাবে সমব্যথী। আমাদের কোনো নেপালি শিক্ষার্থীর পরিবার সরাসরি এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলো তাদের যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।




























