ঢাকা ১০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে গিয়ে ৪ দিন ধরে নিখোঁজ ৩ শিক্ষার্থী স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের পর আকাশে দেখা গেল জেলিফিশ মেঘ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫ রোনালদোর আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক সমালোচনা করলেন সাবেক সতীর্থ রুনি সন্তান হারিয়ে ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছাড়ল নিউজিল্যান্ডের পরিবার হবিগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ৪৫ ওমর সানী: পরিবার ও শিল্পীদের নিয়ে মিথ্যা তথ্যের প্রতিবাদ, আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পদত্যাগ করিনি, সুস্থ হয়ে চুয়েটে ফিরব: উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল হাসপাতাল থেকে কারাগারে ফিরলেন সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু রাজধানীতে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

গ্যাস সংকটে ফতুল্লার পোশাক কারখানার উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের ধাক্কায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গ্যাসের তীব্র স্বল্পতার কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিদেশি ক্রেতারা এদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, যা দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে থাকা মোট ২৫৬টি পোশাক কারখানার মধ্যে গত দুই বছরেই ১২২টি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৩৪টি কারখানার বেশিরভাগই গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো ডাইং করা কাপড় সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানাকে প্রায়ই কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। এই সময়ে পাওয়া অর্ডারের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কয়েক মাসের উৎপাদন কার্যক্রম চলে। কিন্তু চলমান গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বিদেশি ক্রেতা নতুন করে ক্রয়াদেশ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

গ্যাস সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকেএমইএ-র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গার্মেন্টস, নিটিং, ডাইং ও টেক্সটাইল শিল্প মূলত একটি সমন্বিত উৎপাদন শৃঙ্খলের অংশ। নিটিং কারখানায় সুতা থেকে কাপড় তৈরি হওয়ার পর তা ডাইং কারখানায় রঙ ও ফিনিশিং করা হয় এবং সবশেষে গার্মেন্টসে গিয়ে পোশাকে রূপ নেয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে পুরো উৎপাদন চক্রেই স্থবিরতা নেমে আসে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিএনজি স্টেশন থেকে ক্যাসকেড (খোলা সিলিন্ডার) গ্যাস এনে বয়লার সচল রেখে উৎপাদন বজায় রাখছিল। কিন্তু গত ২৬ জুলাই তিতাস গ্যাসের নতুন নির্দেশনায় যানবাহন ছাড়া ক্যাসকেড সিএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। উৎপাদনে এই স্থবিরতার কারণে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিল আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় যথাসময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়ে মালিকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এই সংকট না কাটলে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে দেশের শিল্প খাত।

ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আজাদ রিফাত ফাইবার্স-এর পরিচালক তাইজুল ইসলাম রাজীব নিজের কারখানার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, ডাইং ইউনিট সচল রাখতে কমপক্ষে ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। এই যৎসামান্য চাপ দিয়ে কাপড় রঙ করা বা শুকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে গার্মেন্টসে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করা নিয়ে তারা চরম শঙ্কায় রয়েছেন।

শিল্প মালিকদের মতে, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। একই সঙ্গে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকটে ফতুল্লার পোশাক কারখানার উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকে

আপডেট সময় : ০৭:১৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটের ধাক্কায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গ্যাসের তীব্র স্বল্পতার কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিদেশি ক্রেতারা এদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, যা দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে থাকা মোট ২৫৬টি পোশাক কারখানার মধ্যে গত দুই বছরেই ১২২টি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৩৪টি কারখানার বেশিরভাগই গ্যাস সংকটের কারণে সময়মতো ডাইং করা কাপড় সংগ্রহ করতে পারছে না। ফলে স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানাকে প্রায়ই কাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা জানান, প্রতি বছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিদেশি ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্রয়াদেশ দিয়ে থাকেন। এই সময়ে পাওয়া অর্ডারের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কয়েক মাসের উৎপাদন কার্যক্রম চলে। কিন্তু চলমান গ্যাস সংকটের কারণে অনেক বিদেশি ক্রেতা নতুন করে ক্রয়াদেশ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

গ্যাস সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বিকেএমইএ-র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গার্মেন্টস, নিটিং, ডাইং ও টেক্সটাইল শিল্প মূলত একটি সমন্বিত উৎপাদন শৃঙ্খলের অংশ। নিটিং কারখানায় সুতা থেকে কাপড় তৈরি হওয়ার পর তা ডাইং কারখানায় রঙ ও ফিনিশিং করা হয় এবং সবশেষে গার্মেন্টসে গিয়ে পোশাকে রূপ নেয়। ফলে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে পুরো উৎপাদন চক্রেই স্থবিরতা নেমে আসে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও জানান, গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সিএনজি স্টেশন থেকে ক্যাসকেড (খোলা সিলিন্ডার) গ্যাস এনে বয়লার সচল রেখে উৎপাদন বজায় রাখছিল। কিন্তু গত ২৬ জুলাই তিতাস গ্যাসের নতুন নির্দেশনায় যানবাহন ছাড়া ক্যাসকেড সিএনজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে এই বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। উৎপাদনে এই স্থবিরতার কারণে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিল আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় যথাসময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া নিয়ে মালিকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। এই সংকট না কাটলে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে দেশের শিল্প খাত।

ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার আজাদ রিফাত ফাইবার্স-এর পরিচালক তাইজুল ইসলাম রাজীব নিজের কারখানার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, ডাইং ইউনিট সচল রাখতে কমপক্ষে ৫ পিএসআই গ্যাসের চাপ প্রয়োজন হলেও তারা পাচ্ছেন মাত্র ১ থেকে ২ পিএসআই। এই যৎসামান্য চাপ দিয়ে কাপড় রঙ করা বা শুকানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে গার্মেন্টসে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে এবং বিদেশি ক্রেতাদের সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করা নিয়ে তারা চরম শঙ্কায় রয়েছেন।

শিল্প মালিকদের মতে, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে। একই সঙ্গে রপ্তানি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh