৯/১১-কে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ না বলার নির্দেশ নিয়ে সিবিসির সমালোচনা
- আপডেট সময় : ০৯:১৩:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া ভয়াবহ হামলার ২৫তম বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার প্রাক্কালে কানাডার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসি তাদের সাংবাদিকদের জন্য একটি বিতর্কিত নির্দেশনা জারি করেছে। নতুন এই নির্দেশনায় সাংবাদিকদের ৯/১১-এর ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বা ‘টেরোরিস্ট অ্যাটাকস’ হিসেবে অভিহিত না করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি টরন্টো সানের এক কলামনিস্টের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সিবিসির জনসংযোগ বিষয়ক পরিচালক কেরি কেলি নিশ্চিত করেছেন যে, ‘টেরোরিস্ট’ ও ‘টেরোরিজম’ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে আসছে। সিবিসির বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমটি নিজে থেকে কোনো ঘটনা বা গোষ্ঠীকে এসব শব্দে চিহ্নিত করে না। বরং কোনো সূত্র, সাক্ষাৎকারদাতা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হিসেবেই কেবল এসব শব্দ ব্যবহার করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, ‘টেরোর’, ‘টেরোরিস্ট’ ও ‘টেরোরিজম’ শব্দগুলো রাজনৈতিক ও আবেগগতভাবে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত, যা সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠতাকে ব্যাহত করতে পারে। তাদের অভ্যন্তরীণ মেমোতে ৯/১১-এর ঘটনাকে কেবল ‘দ্য হাইজ্যাকিংস লিড টু প্যাসেঞ্জার জেট ক্র্যাশেস’ বা ‘বিমান ছিনতাইয়ের ফলে যাত্রীবাহী বিমানগুলো বিধ্বস্ত হয়’ হিসেবে বর্ণনা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এই অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য ভিকি পালাদিনো। তিনি এটিকে ‘আপত্তিকর ও অপমানজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এই ভাষা ওই হামলায় নিহত প্রায় ৩ হাজার মানুষ এবং তাদের পরিবারের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা ঘটনার ভয়াবহতা ও এর পেছনের পরিকল্পিত উদ্দেশ্যকে খাটো করে দেখায়। উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে ২৬ জন কানাডীয় নাগরিক ছিলেন।
সিবিসি জানিয়েছে, এটি তাদের নতুন কোনো নীতি নয়। ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার সময়ও তারা একই ধরনের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়েছিল। বার্তা সংস্থা এপিও ঐতিহাসিকভাবে ‘টেরোরিজম’ ও ‘টেরোরিস্ট’ শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকে। এপির স্টাইলবুকের যুক্তি হলো, এসব শব্দ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রয়োগের ঝুঁকি থাকে, তাই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরাই অধিক কার্যকর। তবে ৯/১১-এর মতো একটি ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে এই নীতি প্রয়োগ করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।




























