মানিকগঞ্জে গুদামের ১২০ টন চাল-গম গায়েব, দুই খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত
- আপডেট সময় : ০২:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা সরকারি খাদ্য গুদাম (এলএসডি) থেকে ১২০ টন খাদ্যশস্য ও সাড়ে ছয় হাজার খালি বস্তা গায়েব হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (খাদ্য পরিদর্শক) শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে পুরো খাদ্য গুদামটি।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫শে আগস্ট (মঙ্গলবার) অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত দল ঘিওরের সরকারি খাদ্য গুদামে আকস্মিক অডিট পরিচালনা করে। সেখানে খাতাকলমের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুত মেলাতে গিয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। তদন্তে দেখা যায়, সরকারি গুদাম থেকে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমসহ মোট ১২০ টন খাদ্যশস্য এবং ৬ হাজার ৫০০টি খালি বস্তা গায়েব হয়ে গেছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে, হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত ৪১ টন ধান গুদামে বেশি পাওয়া যায়।
এই জালিয়াতির ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত দল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগকে অবহিত করে। এরপরই গত বৃহস্পতিবার রাতে খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান একই দিন দিবাগত রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখন বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে অডিট চলাকালেই নথিপত্রের সঙ্গে মজুতের চরম অসঙ্গতি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের উপস্থিতিতে ঘিওর এলএসডি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ মাত্র ১০ দিন আগে, অর্থাৎ গত ১৫ই আগস্ট পাঠানো পাক্ষিক প্রতিবেদনে উপজেলা খাদ্য গুদামের মজুত পুরোপুরি নিখুঁত ও সঠিক দেখানো হয়েছিল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে কীভাবে এত বড় অঙ্কের চাল ও গম গায়েব হলো, নাকি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার এবং গুদাম কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা দুজনে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আইয়ুব রায়হান জানান, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিশেষ অডিট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঘিওরে এই বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



























