রংপুরে চার খুনের রহস্যে অটল জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০১:৫৮:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িটি এখন এক বিষাদময় ইতিহাসের সাক্ষী। রংপুরের মাছুয়াপাড়ার সেই বাড়িতে এখন সুনশান নীরবতা, আর বাইরে পাহারায় রয়েছেন আনোয়ার, নুর ইসলাম, মারুফ, হুমায়ুন ফরিদ ও নাজমুলসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ কৌতূহলী হয়ে বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন। শুক্রবার নবনিযুক্ত পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই এবং প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রংপুর সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট, সনাতনী অধিকার আন্দোলন, ব্রাহ্মণ সংসদ, হিন্দু যুব জোটসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। মানিক চৌধুরী জয়, প্রদীপ কান্তি ও ফিজুর দাসসহ বক্তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং তদন্ত নিয়ে জনমনে ওঠা প্রশ্নগুলোর সুষ্ঠু সমাধানের দাবি করেন। তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক একা এই চার খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না এবং এর পেছনে রাঘব এর পেছনে রাঘব এর পেছনে রাঘব-বোয়ালরা থাকতে পারে।
রংপুরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চারজনকে হত্যার সময় কেউ কি ধস্তাধস্তি বা চিৎকার শোনেনি? নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দুই যুবক কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিয়েও অনেকে সন্দিহান। এছাড়া গণপতি চক্রবর্তী ও তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মোবাইল কললিস্ট থেকে কোনো সূত্র না পাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিক তৌফিক মারুফের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে, যেখানে পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদের অতীত কর্মকাণ্ড ও আগামী চক্রবর্তীর এক বান্ধবীর জমি সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
গণপতি চক্রবর্তী শিক্ষকতা করাকালীন মাছুয়াপাড়ায় প্রায় ৬ শতক জমি ক্রয় করে তিন তলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে তিনি স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, কন্যা আগামী চক্রবর্তী ও পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া পুত্র প্রিয়ম চক্রবর্তীকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে সংসার করছিলেন। গত ২২শে আগস্ট আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িটি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথম তলার দ্বিতীয় সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫), দ্বিতীয় তলার খাটের নিচে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২) এবং চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তীর (৬৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বাড়ির আসবাবপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকাসহ আলমারির ড্রয়ার ভাঙা অবস্থায় ছিল। পুলিশ প্রথমত ডাকাতির সন্দেহ করলেও পরে প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জবানবন্দি অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এই ঘটনায় ১৬ জন সাক্ষী ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দির বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলেও, লাশ কাটা ডোম জয়তুনের একটি গোপন ভিডিওর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়, যেখানে তিনি প্রীতিলতা ও আগামীর দেহ থেকে বীর্য পাওয়ার দাবি করেন। তবে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ইনচার্জ ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এবং সদ্য বিদায়ী পুলিশ কমিশনার আব্দুল মাবুদ ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তারা জানিয়েছেন, গলায় কাপড় পেঁচানোর কারণে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় বীর্য আসতে পারে। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন পূজা উদ্যাপন কমিটির সাবেক সভাপতি সুব্রত সরকার মুকুল।



























