ফটিকছড়িতে নাটকীয় অভিযানে অস্ত্রসহ ‘গলা কাটা মোবারক’ গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১১:০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে নাটকীয় দর-কষাকষি ও কসম কাটার পর আত্মসমর্পণ করেছেন নগরীর আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলা কাটা মোবারক’। বুধবার ভোরে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৩টি পিস্তল, ২৩ রাউন্ড গুলি ও ৪টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার তিন সহযোগীকেও।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহনগরের একটি বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ঘরে প্রবেশ করতেই ঘরের ফলস ছাদ থেকে গুলি ছুড়তে শুরু করেন মোবারক। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এই গোলাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।
গোলাগুলি থামার পর শুরু হয় মোবারককে জীবিত উদ্ধারের ২০ মিনিটের এক নাটকীয় দর-কষাকষি, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দরজার ওপাশ থেকে পুলিশ সদস্যরা মোবারককে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। পুলিশ তাকে বলে, "জীবন বাঁচাতে চাইলে অস্ত্র ফেলে দে। আমাদের হাতে ধরা দে। আমরা জীবন বাঁচাব। খবর পাইছি, তোরে বাইরে কেউ মারার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা তোরে বাঁচানোর জন্য আসছি।" কিন্তু মোবারক প্রথমে অস্ত্র ফেলতে রাজি হননি এবং বলেন, "অস্ত্র দিলে সমস্যা হবে।"
একপর্যায়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা নিজেকে ওসি পরিচয় দিয়ে অভয় দিলে মোবারক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। তিনি বলেন, "আপনারা কসম করেন, আমাকে কিছু করবেন না।" পুলিশ বারবার আশ্বস্ত করে বলে, "কিছু করব না। খোদার কসম, কিছু করব না।" পুলিশ তাকে আরও মনে করিয়ে দেয় যে, ইমন নামের আরেক সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং মোবারক তার চেয়ে বড় সন্ত্রাসী নন। অবশেষে আশ্বস্ত হয়ে মোবারক বলেন, "থ্যাঙ্ক ইউ, থ্যাঙ্ক ইউ, ভালো হইছে।" এরপর ঘরের এক বৃদ্ধের মাধ্যমে ফলস ছাদ থেকে ৩টি পিস্তল ও গুলি নামিয়ে দিয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোবারক চট্টগ্রাম নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফটিকছড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আজিজ জানান, মোবারক প্রথমে গুলি চালালেও পুলিশ তাকে জীবিত গ্রেপ্তার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়েছে।



























