ডারউইনের মিচেল স্ট্রিটে অলস দুপুরে বাংলাদেশ দলের আড্ডা
- আপডেট সময় : ০৫:৩৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

মিচেল স্ট্রিট সাধারণত রাতের বেলাতেই বেশি সজাগ থাকে, ভরদুপুরে থাকে নীরব। তবে ডারউইন টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে সেই নীরবতা ভেঙেছে বাংলাদেশিদের পদচারণায়। টিম হোটেল এবং সিরিজ কাভার করতে আসা সাংবাদিকদের হোটেলগুলো কাছাকাছি হওয়ায় ডারউইন সিটি সেন্টারের এই সড়কটি যেন এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল। চতুর্থ দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় নিশ্চিত হওয়ায় পঞ্চম দিনটি দলের জন্য ছিল পুরোপুরি ছুটির আমেজের। ডারউইনের আনন্দময় স্মৃতি নিয়ে আগামীকাল সকালেই ম্যাকাইয়ের ফ্লাইট ধরার কথা রয়েছে দলের।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান দুপুরের খাবার খেতে বের হয়েছিলেন। ছুটির দিনে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়াতে না চাইলেও, দলের ম্যানেজার ও জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার নাফিস ইকবাল জানিয়েছেন সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। মিচেল স্ট্রিটে হাঁটার সময় তাসকিন আহমেদ, কোচ ফিল সিমন্স এবং পেসার খালেদ আহমেদকেও দেখা গেছে। এই অনানুষ্ঠানিক হাঁটাচলার সময় স্থানীয় এক পথচারী বাংলাদেশ দলকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি হাসিমুখে বলেন, ‘বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিল! খুব ভালো খেলেছ তোমরা। পরের টেস্টেও নিশ্চয়ই ভালো খেলবে।’
অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল স্থানীয়দের কাছ থেকে সম্মান ও ভালোবাসা পাচ্ছে। গতকাল ম্যাচ শেষে মেহেদী হাসান মিরাজও হোটেলে এক বৃদ্ধার কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে অবাক হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। মিচেল স্ট্রিটেই অবস্থিত ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টের মালিক নিক, যিনি ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে ডারউইনে বসবাস করছেন, তিনিও বাংলাদেশের এই জয়ে বেশ নাড়া খেয়েছেন। রেস্টুরেন্টে দুজন বাংলাদেশি কর্মী থাকায় বাংলাদেশ নিয়ে তার আগ্রহ এমনিতেই বেশি। তবে নিকের মনে কিছুটা আক্ষেপও রয়েছে; তিনি আশা করেছিলেন টেস্ট ম্যাচ উপলক্ষে সারা দেশ থেকে দর্শক আসবে এবং মিচেল স্ট্রিট জমজমাট হয়ে উঠবে, যা তার ব্যবসায়িক প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। নিক বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে ব্যবসার মন্দা নিয়ে চিন্তিত এবং গ্রিসে ফিরে গিয়ে নতুন রেস্টুরেন্ট খোলার পরিকল্পনা করছেন।
রেস্টুরেন্টে আড্ডার ফাঁকে পেসার তাসকিন আহমেদ ডারউইনের উইকেটে বোলিং করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। তিনি চোটের কারণে এই সিরিজে বাইরে থাকা পেসার নাহিদ রানার অভাবের কথাও উল্লেখ করেন। তাসকিনের মতে, এই উইকেটে নাহিদ ভালো করতে পারত। সব মিলিয়ে, ডারউইন টেস্টের শেষ দিনটি বাংলাদেশ দলের জন্য ছিল মাঠের বাইরে আনন্দময় ও অলস বিশ্রামের একটি দিন। সন্ধ্যায় দলের সম্মানে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশন এসপ্ল্যানেডের ডাবল ট্রি বাই হিলটনে একটি নৈশভোজের আয়োজন করেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার সাবেকদের কাছে এই হার ‘অত্যন্ত লজ্জার’ বা ‘সবচেয়ে বড় অঘটন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অবশ্য বাংলাদেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহের আরেকটি কারণ; ইস্তাম্বুল রেস্টুরেন্টে দুজন বাংলাদেশিও কাজ করেন।.প্রথম ৩০ টেস্টে শূন্য জয়, সর্বশেষ ১০ টেস্টে চার—বদলে যাওয়ার এই গল্প বাংলাদেশের.বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বলে খুশি নিক, তবে একটা কারণে মন খারাপও আছে।




























