কালীগঞ্জে ৮০ স্কুলে নেই নৈশপ্রহরী, দেওতলা বিদ্যালয়ে দেড় লাখের চুরি
- আপডেট সময় : ০৪:৩৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে ৮০টিতেই কোনো নৈশপ্রহরী নেই। এমন জনবল সংকটের মধ্যেই উপজেলার জাংগালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, চোরেরা তালা ভেঙে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষের পকেট গেট ও অফিসের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় বিদ্যালয়ের আলমিরা ও টেবিলের ড্রয়ার খোলা ছিল এবং ভেতরের কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি জানান, সকালে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশের পরই চুরির বিষয়টি নজরে আসে। পরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন ও অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কারিমা জানান, চুরির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ভিড় করলে তাদের ভাঙা তালা বা আসবাবপত্রে হাত না দিতে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা যায়। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ভাঙা তালাটিও সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের ধারণা, কোনো মাদকাসক্ত ব্যক্তি এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে, যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৪৭টিতে নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে দেওয়ায় শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০টিতে। তিনি আরও জানান, তিনি কালীগঞ্জে যোগ দেওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যেই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা অথবা শূন্য পদে লোক নিয়োগে বরাদ্দ দেওয়া হলে এ ধরনের চুরি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব। দেওতলার চুরির ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























