ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইনিংস ব্যবধানে হার এড়ালো অস্ট্রেলিয়া, লিড মাত্র ১৫ রানের

৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে আনতে ৫-৬ হাজার টাকার স্মার্টফোন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের প্রায় অর্ধেক মোবাইল গ্রাহক এখনও টু-জি বা বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সহজ কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা এবং অপারেটরদের বিশেষ বান্ডেল অফার চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে শুধু তরঙ্গের মূল্য কমালেই চলবে না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিভাইস পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কম দামের ফোনের কাঁচামালে কর, শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল গ্রাহকের অর্ধেকই বাটন ফোন ব্যবহারকারী। তাদের রাতারাতি স্মার্টফোনে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তবে ৫০ থেকে ৫৫ ডলারের মধ্যে ডিভাইস তৈরির সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন দেশীয় নির্মাতারা, যা ভারতের একটি কম দামি মডেলের আদলে তৈরি হতে পারে। এছাড়া শেষ প্রান্তের মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত করতে সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ডের অর্থ ব্যবহার এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণের তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এককালীন রাজস্ব আদায়ের চেয়ে গ্রাহকসেবা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে স্পেকট্রামের পরিমাণ মাত্র ২ দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের প্রয়োজন হতে পারে।

এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা এবং বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্যের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্য অপারেটরদের নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা সেবার মানকে ব্যাহত করে। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমানও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও মানসম্মত সেবা বজায় রাখতে নবায়নের অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবসম্মত করার দাবি জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণকে প্রাধান্য দেওয়ায় দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স দুর্বল হয়েছে, যা ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সূচকে ৯৩তম অবস্থানে ছিল। তিনি নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, ব্যবসায়িক মূল্য ও আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সমন্বয়ে স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। টিআরএনবি সভাপতি এসএম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন। বৈঠকে সাশ্রয়ী ডিভাইস, পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও মানসম্মত সংযোগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

ভারতের একটি কম দামি ফোনের মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারা ৫০-৫৫ ডলারের মধ্যে ডিভাইস তৈরির সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন বলেও জানান উপদেষ্টা।নবায়নে বাস্তবতার প্রতিফলন : স্পেকট্রাম নবায়নে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল, সেবার সক্ষমতা ও গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

৭ কোটি মানুষকে ডেটা নেটওয়ার্কে আনতে ৫-৬ হাজার টাকার স্মার্টফোন

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশের প্রায় অর্ধেক মোবাইল গ্রাহক এখনও টু-জি বা বাটন ফোন ব্যবহার করছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সহজ কিস্তি বা ইএমআই সুবিধা এবং অপারেটরদের বিশেষ বান্ডেল অফার চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘স্পেকট্রাম ফর এ কানেক্টেড বাংলাদেশ : এনাবলিং ইন্টারনেট ফর অল’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি ও টেলিকম উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হলে শুধু তরঙ্গের মূল্য কমালেই চলবে না, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিভাইস পৌঁছে দেওয়া জরুরি। কম দামের ফোনের কাঁচামালে কর, শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে উপদেষ্টা জানান, দেশের প্রায় ১৪ কোটি মোবাইল গ্রাহকের অর্ধেকই বাটন ফোন ব্যবহারকারী। তাদের রাতারাতি স্মার্টফোনে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। তবে ৫০ থেকে ৫৫ ডলারের মধ্যে ডিভাইস তৈরির সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন দেশীয় নির্মাতারা, যা ভারতের একটি কম দামি মডেলের আদলে তৈরি হতে পারে। এছাড়া শেষ প্রান্তের মানুষকে ইন্টারনেটে যুক্ত করতে সার্ভিস অবলিগেশন ফান্ডের অর্থ ব্যবহার এবং পাবলিক ওয়াই-ফাই সম্প্রসারণের তাগিদ দেন তিনি।

বৈঠকে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এককালীন রাজস্ব আদায়ের চেয়ে গ্রাহকসেবা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে প্রতি ১০ লাখ গ্রাহকের বিপরীতে স্পেকট্রামের পরিমাণ মাত্র ২ দশমিক ২৯ মেগাহার্টজ, যেখানে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের প্রয়োজন হতে পারে।

এমটব সভাপতি ও রবির সিইও জিয়াদ সাতারা এবং বাংলালিংকের সিইও ইয়োহান বুসে স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্যের নেতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরেন। তারা বলেন, স্পেকট্রামের অতিরিক্ত মূল্য অপারেটরদের নেটওয়ার্ক বিনিয়োগের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা সেবার মানকে ব্যাহত করে। গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমানও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও মানসম্মত সেবা বজায় রাখতে নবায়নের অর্থনৈতিক কাঠামো বাস্তবসম্মত করার দাবি জানান।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মুনির হাসান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব আহরণকে প্রাধান্য দেওয়ায় দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক পারফরম্যান্স দুর্বল হয়েছে, যা ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সূচকে ৯৩তম অবস্থানে ছিল। তিনি নেটওয়ার্ক অর্থনীতি, ব্যবসায়িক মূল্য ও আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সমন্বয়ে স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব দেন। টিআরএনবি সভাপতি এসএম মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসাইন। বৈঠকে সাশ্রয়ী ডিভাইস, পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও মানসম্মত সংযোগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

ভারতের একটি কম দামি ফোনের মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের নির্মাতারা ৫০-৫৫ ডলারের মধ্যে ডিভাইস তৈরির সক্ষমতার কথা জানিয়েছেন বলেও জানান উপদেষ্টা।নবায়নে বাস্তবতার প্রতিফলন : স্পেকট্রাম নবায়নে অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, নেটওয়ার্কের মান, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল, সেবার সক্ষমতা ও গ্রাহকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy