ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন রাঙামাটিতে সন্তানকে বাঁচিয়ে ডুবে গেলেন বাবা, ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে: চিফ প্রসিকিউটর ঢাবির ফজলুল হক হলে প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ গ্যাস সংকটে ২৬ দিন ধরে বন্ধ ময়মনসিংহের বিদ্যুৎকেন্দ্র জনগণের স্বস্তির জন্য কাজ করছে বর্তমান সরকার: রুহুল কবির রিজভী বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ, ৪ বিভাগে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস কুবিতে নতুন দুই সহকারী প্রক্টর নিয়োগ শ্রীপুরের জঙ্গলে ১২টি ঘোড়ার দেহাবশেষ, মাংস চুরির অভিযোগ টানা বৃষ্টিতে আবারও জলজটে স্থবির চট্টগ্রাম মহানগরী

ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি তথ্য চুরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি কর প্রশাসন, যা ডিজিএফআইপি (DGFiP) নামে পরিচিত, সম্প্রতি এক বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় ফরাসি করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত এবং করসংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়েছে। হ্যাকাররা চুরি করা তথ্যগুলো সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি অনলাইন ফোরামে বিক্রির জন্য প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

গত ১২ আগস্ট এক হ্যাকার দাবি করে যে, সে ফ্রান্সের কর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। পরদিন ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে। তদন্ত থেকে জানা গেছে, হ্যাকার একটি ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের (VPN) মাধ্যমে ডিজিএফআইপি-র অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় ওই অননুমোদিত প্রবেশ শনাক্ত করে তা বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে কোনো তথ্য চুরি হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েনি।

পরবর্তীতে হ্যাকার যখন প্রকাশ্যে তথ্য বিক্রির ঘোষণা দেয়, তখনই কর্তৃপক্ষ তথ্য চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। জুনের শেষ দিকে অনুপ্রবেশ শনাক্ত হওয়ার পরও কেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাকার শুরুতে কয়েক কোটি ফরাসি নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করলেও, বিক্রির জন্য দেওয়া নমুনায় ৬ লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফরাসি কর প্রশাসন জানিয়েছে, চুরি হওয়া তথ্যের ধরন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

চুরি হওয়া তথ্যের নমুনায় ব্যক্তির পরিচয়, বাসার ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, করযোগ্য আয়, করের হার এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু নথিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অর্থ দপ্তরের নাম এবং করদাতার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তার পরিচয়ও রয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণার বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয়, ঠিকানা ও করসংক্রান্ত তথ্যগুলো ব্যবহার করে প্রতারকরা বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়ে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার পর ডিজিএফআইপি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ফ্রান্সের জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা 'আনসি' (ANSSI)-এর সহায়তায় তদন্ত চলছে। সরকার এই ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করবে এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিএনআইএল (CNIL)-কে বিষয়টি অবহিত করা হবে। ফ্রান্সের সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে একটি সরকারি ব্যাংক ডাটাবেজ এবং জুলাইয়ের শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। সরকারি তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হ্যাকারের কয়েক কোটি মানুষের তথ্য চুরির দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফ্রান্সের কর বিভাগে সাইবার হামলা, ৬ লাখের বেশি তথ্য চুরি

আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফ্রান্সের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি কর প্রশাসন, যা ডিজিএফআইপি (DGFiP) নামে পরিচিত, সম্প্রতি এক বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় ফরাসি করদাতা ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত এবং করসংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়েছে। হ্যাকাররা চুরি করা তথ্যগুলো সাইবার অপরাধীদের ব্যবহৃত একটি অনলাইন ফোরামে বিক্রির জন্য প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

গত ১২ আগস্ট এক হ্যাকার দাবি করে যে, সে ফ্রান্সের কর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ একটি ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে এবং বিপুলসংখ্যক নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। পরদিন ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার করে। তদন্ত থেকে জানা গেছে, হ্যাকার একটি ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের (VPN) মাধ্যমে ডিজিএফআইপি-র অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পেয়েছিল। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ দিকে নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় ওই অননুমোদিত প্রবেশ শনাক্ত করে তা বন্ধ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে কোনো তথ্য চুরি হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েনি।

পরবর্তীতে হ্যাকার যখন প্রকাশ্যে তথ্য বিক্রির ঘোষণা দেয়, তখনই কর্তৃপক্ষ তথ্য চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। জুনের শেষ দিকে অনুপ্রবেশ শনাক্ত হওয়ার পরও কেন বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। হ্যাকার শুরুতে কয়েক কোটি ফরাসি নাগরিকের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার দাবি করলেও, বিক্রির জন্য দেওয়া নমুনায় ৬ লাখের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফরাসি কর প্রশাসন জানিয়েছে, চুরি হওয়া তথ্যের ধরন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

চুরি হওয়া তথ্যের নমুনায় ব্যক্তির পরিচয়, বাসার ঠিকানা, ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, করযোগ্য আয়, করের হার এবং পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু নথিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকারি অর্থ দপ্তরের নাম এবং করদাতার সঙ্গে কাজ করা কর্মকর্তার পরিচয়ও রয়েছে। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতারণার বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয়, ঠিকানা ও করসংক্রান্ত তথ্যগুলো ব্যবহার করে প্রতারকরা বিশ্বাসযোগ্য পরিচয়ে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঘটনার পর ডিজিএফআইপি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ফ্রান্সের জাতীয় তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা সংস্থা 'আনসি' (ANSSI)-এর সহায়তায় তদন্ত চলছে। সরকার এই ঘটনায় ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করবে এবং তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিএনআইএল (CNIL)-কে বিষয়টি অবহিত করা হবে। ফ্রান্সের সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে সাইবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে একটি সরকারি ব্যাংক ডাটাবেজ এবং জুলাইয়ের শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের তথ্য নিয়ে নিরাপত্তা ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এসেছিল। সরকারি তথ্য অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ফরাসি অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হ্যাকারের কয়েক কোটি মানুষের তথ্য চুরির দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin