ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডারউইনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৪ দিনেই অস্ট্রেলিয়া বধ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ঝিনাইদহে পুকুরে ডুবে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রের মৃত্যু অনারারি ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি প্রাণ গ্রুপে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে চাকরির সুযোগ দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ ১১ জনের প্রাণহানি হাসিনাকে ‘অমূল্য সম্পদ’ বলা চসিক সচিবের অডিও ফাঁস কিশোরগঞ্জে ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি ক্যানেল উদ্ধারের দাবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রংপুর নগরীর পরিবেশ, ইতিহাস এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো কেডি ক্যানেল। একসময় এই জলধারাটি নগরীর কৃষিকাজ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে এটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দিনের পর দিন দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যাপক দূষণের ফলে ক্যানেলটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে।

প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কয়েক দশক আগেও কেডি ক্যানেলের পানি ছিল স্বচ্ছ এবং প্রাণবন্ত। বর্ষা মৌসুমে এই ক্যানেল দিয়েই দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হতো, যা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা রোধে সহায়ক ছিল। সেই সময়ে ক্যানেলের দুই পাড় ছিল সবুজ ও পরিচ্ছন্ন, যেখানে স্থানীয়রা মাছ ধরতেন এবং শিশুরা খেলাধুলা করত। কিন্তু নগরায়নের প্রসারের সাথে সাথে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তদারকির অভাবে ক্যানেলের বিভিন্ন অংশ দখল করে অবৈধ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, ফলে ক্যানেলের প্রস্থ কমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যানেলের তীরবর্তী এলাকাগুলো এখন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ নানা ধরনের কঠিন আবর্জনা নিয়মিত ফেলার কারণে ক্যানেলের তলদেশ ভরাট হয়ে পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, ক্যানেল শুধু পানি বহনের পথ নয়, এটি একটি জীবন্ত পরিবেশব্যবস্থা। এই জলধারা সংকুচিত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রংপুরের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনায় কেডি ক্যানেলকে মূল ড্রেনেজ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। সামান্য বৃষ্টিতেই এখন নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে মশার উপদ্রব এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীরা অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ক্যানেলের সীমানা নির্ধারণ, নিয়মিত খনন কাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, একই সাথে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, রংপুরের প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত এই কেডি ক্যানেলটি অচিরেই ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে, যার দায়ভার নিতে হবে নগরবাসীকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

রংপুর নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি ক্যানেল উদ্ধারের দাবি

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীর পরিবেশ, ইতিহাস এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো কেডি ক্যানেল। একসময় এই জলধারাটি নগরীর কৃষিকাজ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে এটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দিনের পর দিন দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যাপক দূষণের ফলে ক্যানেলটি তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে।

প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কয়েক দশক আগেও কেডি ক্যানেলের পানি ছিল স্বচ্ছ এবং প্রাণবন্ত। বর্ষা মৌসুমে এই ক্যানেল দিয়েই দ্রুত পানি নিষ্কাশিত হতো, যা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা রোধে সহায়ক ছিল। সেই সময়ে ক্যানেলের দুই পাড় ছিল সবুজ ও পরিচ্ছন্ন, যেখানে স্থানীয়রা মাছ ধরতেন এবং শিশুরা খেলাধুলা করত। কিন্তু নগরায়নের প্রসারের সাথে সাথে এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তদারকির অভাবে ক্যানেলের বিভিন্ন অংশ দখল করে অবৈধ ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে, ফলে ক্যানেলের প্রস্থ কমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যানেলের তীরবর্তী এলাকাগুলো এখন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পলিথিনসহ নানা ধরনের কঠিন আবর্জনা নিয়মিত ফেলার কারণে ক্যানেলের তলদেশ ভরাট হয়ে পানিধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, ক্যানেল শুধু পানি বহনের পথ নয়, এটি একটি জীবন্ত পরিবেশব্যবস্থা। এই জলধারা সংকুচিত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ব্যাহত হচ্ছে এবং নগরীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রংপুরের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনায় কেডি ক্যানেলকে মূল ড্রেনেজ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। সামান্য বৃষ্টিতেই এখন নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। ক্যানেলের বিভিন্ন অংশে জমে থাকা ময়লা ও দুর্গন্ধের কারণে মশার উপদ্রব এবং পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশকর্মীরা অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ক্যানেলের সীমানা নির্ধারণ, নিয়মিত খনন কাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, একই সাথে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায়, রংপুরের প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত এই কেডি ক্যানেলটি অচিরেই ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাবে, যার দায়ভার নিতে হবে নগরবাসীকে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh