ডিমের দাম বাড়লেও লোকসানে পিরোজপুরের খামারিরা, বন্ধের পথে ৩০০ খামার
- আপডেট সময় : ০১:২২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরে ডিমের দাম বাড়লেও পোলট্রি খামারিরা কোনো স্বস্তি পাচ্ছেন না। মুরগির খাবার, ওষুধ, বিদ্যুৎ এবং পরিবহনসহ উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডিমের বাড়তি দামের কোনো সুফলই তাদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে লোকসান সামলাতে হিমশিম খেয়ে জেলার প্রায় ৩০০টি খামার এখন বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
জেলায় বছরে প্রায় ৩১ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ডিম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে জেলার নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলায় ডিমের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তরুন কুমার সিকদার জানান, পিরোজপুরে সাড়ে চার হাজারের বেশি পোলট্রি খামার রয়েছে। যদিও কিছু নতুন খামার গড়ে উঠছে, তবুও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের কারণে সংকটে থাকা খামারের সংখ্যাটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খামারিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের শুরুতে প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা জুলাই মাসের শুরুতে ছিল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। ডজনে প্রায় ২০ টাকা দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ সেই তুলনায় অনেক বেশি বেড়ে গেছে। খামারিদের অভিযোগ, এর পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বড় ভূমিকা রাখছে। খামার থেকে ভোক্তার হাতে ডিম পৌঁছানোর আগেই দামে বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে এবং খামারিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের খামারি ইমন শেখ জানান, কিছু ব্যবসায়ী কম দামে ডিম কিনে মজুত করে পরে চড়া দামে বাজারে ছাড়ছেন, যার ফলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রসেনজিৎ হাওলাদার এবং নেছারাবাদের দৈহারি ইউনিয়নের ফিরোজ শেখের ভাষ্যমতে, খাবার, ওষুধ ও মুরগির বাচ্চার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক খামারি ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তারা অবিলম্বে খাবার ও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ডিমের উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা বাজারে এর বিক্রি গত মাসের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ক্রেতারা মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম কিনতে গিয়েও এখন হিমশিম খাচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার মতে, খামারি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ডিমে দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ যোগ হয়। কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ না নিলে এই শিল্প আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



























