সিলেটে তীব্র লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত
- আপডেট সময় : ১১:০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে তীব্র দাবদাহ ও অসহনীয় গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সমানতালে চলছে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট। ঘণ্টায় ঘণ্টায় অনিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সোমবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন পরিস্থিতিতে লোডশেডিংয়ের ফলে অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানীয় জলের সংকট।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির এই চরম অবনতিতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা রোববার রাতে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে তারা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। জিন্দাবাজারের পোশাক ব্যবসায়ী জাবের আহমদ জানান, এমনিতেই ব্যবসার মন্দা চলছে, তার ওপর জেনারেটর চালিয়ে লাইট ও ফ্যান সচল রাখতে গিয়ে আয়ের চেয়ে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। ভার্থখলা এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে ফ্রিজ ও এসি ঠিকমতো সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে ফ্রিজে রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রাহেলা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিনে-রাতে অন্তত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এমনকি রাত ১২টার পর বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেলেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সিলেটে ২৪৭ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া গেছে ২০২ মেগাওয়াট, অর্থাৎ ৪৫ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। আগের দিন রোববার ২৩৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৭৭ মেগাওয়াট, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৬ মেগাওয়াট।
লোডশেডিং ও জনদুর্ভোগ প্রসঙ্গে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন জানান, সারাদেশেই এখন চরম বিদ্যুৎ সংকট চলছে। গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে, তা-ই বণ্টন করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং কমে আসবে, তবে সরবরাহে ঘাটতি থাকলে লোডশেডিং করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

























