ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ট্রাম্পের ১৫ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে ‘বাস্তবিক অর্থে’ সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফার এই নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত কোনো সেনা প্রত্যাহার হবে না এবং ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাদের ওপর সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করা অব্যাহত থাকবে। এর আগে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গত মাসে দাবি করেছিল যে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারী অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নির্ভর করছে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং সব ধরনের ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর।

এদিকে, রোববার বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৫ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘গুরুত্বসহকারে ও দায়িত্বশীলভাবে’ কাজ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানান যাতে সব পক্ষ এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলে। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল গাজা যুদ্ধের অবসান, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন।

নেতানিয়াহুর এই অবস্থান অবশ্য অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হামাস প্রথমবারের মতো নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে, তবে শর্ত ছিল গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। কিন্তু নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ‘কাল্পনিক নিরস্ত্রীকরণ’ গ্রহণযোগ্য হবে না, এটি বাস্তব ও কার্যকর হতে হবে। অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন যে, নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে এবং এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘তাদের কিছু ধারণা রয়েছে; এর কিছু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, আবার কিছু নয়। এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আমরা জানি কীভাবে এগোতে হবে।’

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ডানপন্থি জোটের চাপও নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রাখছে। তার জোটের কট্টর ডানপন্থি অংশ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই খসড়া পরিকল্পনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে এই পরিকল্পনাই একমাত্র পথ। তিনি জানান, হামাস বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা তা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হবে না। ম্লাদেনভ আরও বলেন, পরিকল্পনাটি এমন একটি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা যাচাইযোগ্য ও প্রয়োজনে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রতিটি ধাপে অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ) বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্রাম্পের ১৫ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করলেন নেতানিয়াহু

আপডেট সময় : ১১:৩৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হামাসকে ‘বাস্তবিক অর্থে’ সম্পূর্ণরূপে নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল ১৫ দফার এই নথিটি প্রত্যাখ্যান করছে।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, হামাস সত্যিকার অর্থে নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত কোনো সেনা প্রত্যাহার হবে না এবং ইসরায়েলি নাগরিক ও সেনাদের ওপর সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করা অব্যাহত থাকবে। এর আগে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গত মাসে দাবি করেছিল যে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। তবে হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ভারী অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি নির্ভর করছে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার এবং সব ধরনের ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর।

এদিকে, রোববার বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে হামাসের এক কর্মকর্তা জানান, তারা চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ১৫ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘গুরুত্বসহকারে ও দায়িত্বশীলভাবে’ কাজ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানান যাতে সব পক্ষ এই চুক্তির শর্তগুলো মেনে চলে। ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাটি গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল গাজা যুদ্ধের অবসান, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন।

নেতানিয়াহুর এই অবস্থান অবশ্য অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হামাস প্রথমবারের মতো নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়েছে, তবে শর্ত ছিল গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। কিন্তু নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো ‘কাল্পনিক নিরস্ত্রীকরণ’ গ্রহণযোগ্য হবে না, এটি বাস্তব ও কার্যকর হতে হবে। অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন যে, নিরস্ত্রীকরণ ও সেনা প্রত্যাহার ধাপে ধাপে সম্পন্ন হতে পারে এবং এ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহু বলেন, ‘তাদের কিছু ধারণা রয়েছে; এর কিছু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য, আবার কিছু নয়। এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে আমরা জানি কীভাবে এগোতে হবে।’

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ডানপন্থি জোটের চাপও নেতানিয়াহুর এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ভূমিকা রাখছে। তার জোটের কট্টর ডানপন্থি অংশ এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই খসড়া পরিকল্পনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ এই পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের মতো হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে এই পরিকল্পনাই একমাত্র পথ। তিনি জানান, হামাস বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা তা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলা হবে না। ম্লাদেনভ আরও বলেন, পরিকল্পনাটি এমন একটি প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা যাচাইযোগ্য ও প্রয়োজনে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব। প্রতিটি ধাপে অগ্রগতি থামিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় দক্ষিণ ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ) বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Amader Shomoy