ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডিত ৬ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি থেকে বরখাস্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি পাগলা নদীর সেতু, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতু’র কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বর্ষার অজুহাতে গত এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ। ফলে উপজেলার মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর—এই তিন ইউনিয়নের সোয়া দুই লাখ মানুষ চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন।

পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ১৭২.৩০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ পর্যন্ত মাত্র ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ৪০ ভাগ কাজ আটকে আছে। কাজ শুরুর দেড় বছরে অন্তত চারবার এই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়েছে।

নির্মাণাধীন সেতুর পাশে থাকা পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তিন বছর আগে সেখানে ইটের পিলার দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে দুর্লভপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের জন্য কানসাট ব্রিজ হয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী শাহিন আলী জানান, শিবগঞ্জ বাজার থেকে তার দোকানের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার হলেও পণ্য আনতে ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া সরু বেইলি ব্রিজে সারাদিন যানজট লেগে থাকে। শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আতিক ইসলাম জানায়, এক লেনের এই জরাজীর্ণ সেতুতে দুটি অটোরিকশা পার হতে গেলেই জট লেগে যায়, যার কারণে প্রায়ই বিদ্যালয়ে যেতে দেরি হয় এবং পরীক্ষার সময় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ জানান, যানজটের কারণে বেইলি ব্রিজে আধা ঘণ্টা আটকে থাকার পর তিনি হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে বাধ্য হন।

সেতুর দুই পাশে থাকা ৩৫টি বাড়ি ও কয়েকটি দোকান উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান হয়নি। গত ৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে জেলা এলজিইডি অফিস থেকে সাতজনকে সাত দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা সরেননি, বরং জেলা প্রশাসকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ভুক্তভোগী সুমাইয়া খাতুন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক বাড়ির মালিকের দাবি, তাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও প্রশাসন জমির ন্যায্য মূল্য বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কথা বলছে না। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তারা মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই ছাড়বেন না।

জানা গেছে, ১৯৯১-৯২ সালে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সময় ৯ জনের দুই একর ৩৯ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মাত্র দুজন ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন, বাকি ৭ জন পাননি। দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম জানান, প্রশাসন বলছে সঠিক কাগজপত্রের অভাবে ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি তাদের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাহিন আলম ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার গুজব অস্বীকার করে বলেন, বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার আব্দুল মান্নান জানান, তাদের কাজে কোনো গাফিলতি নেই এবং উচ্ছেদ সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাহিনুল ইসলাম জানান, বর্ষার কারণে মাঝের পিলারের কাজ বন্ধ থাকলেও জমি অধিগ্রহণ শেষ না থাকায় সংযোগ সড়কের কাজও করা যাচ্ছে না। তবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এতে করে দুর্লভপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ২০-৩০ কিলোমিটার ঘুরে কানসাট ব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

২০২৪ সালের পাঁচ মার্চ জেলা এলজিইডি অফিসের ০১-২০৯১-২০৯২ স্মারকে সাতজনের নামে অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাত দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি পাগলা নদীর সেতু, চরম দুর্ভোগে বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ০৩:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় পাগলা নদীর ওপর নির্মাণাধীন ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মইন উদ্দিন আহমদ মন্টু সেতু’র কাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও বর্ষার অজুহাতে গত এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ। ফলে উপজেলার মনাকষা, বিনোদপুর ও দুর্লভপুর—এই তিন ইউনিয়নের সোয়া দুই লাখ মানুষ চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন।

পল্লী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ১৭২.৩০০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯ কোটি ৯৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩১৫ টাকা। ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ওই বছরের ১৫ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৪ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে এ পর্যন্ত মাত্র ৬০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি ৪০ ভাগ কাজ আটকে আছে। কাজ শুরুর দেড় বছরে অন্তত চারবার এই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়েছে।

নির্মাণাধীন সেতুর পাশে থাকা পুরোনো বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় তিন বছর আগে সেখানে ইটের পিলার দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে দুর্লভপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনের জন্য কানসাট ব্রিজ হয়ে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। স্থানীয় মুদি ব্যবসায়ী শাহিন আলী জানান, শিবগঞ্জ বাজার থেকে তার দোকানের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার হলেও পণ্য আনতে ৩০ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে, যা পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এছাড়া সরু বেইলি ব্রিজে সারাদিন যানজট লেগে থাকে। শিবগঞ্জ সরকারি মডেল হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র আতিক ইসলাম জানায়, এক লেনের এই জরাজীর্ণ সেতুতে দুটি অটোরিকশা পার হতে গেলেই জট লেগে যায়, যার কারণে প্রায়ই বিদ্যালয়ে যেতে দেরি হয় এবং পরীক্ষার সময় ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ জানান, যানজটের কারণে বেইলি ব্রিজে আধা ঘণ্টা আটকে থাকার পর তিনি হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে বাধ্য হন।

সেতুর দুই পাশে থাকা ৩৫টি বাড়ি ও কয়েকটি দোকান উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতার সমাধান হয়নি। গত ৫ মার্চ ২০২৪ তারিখে জেলা এলজিইডি অফিস থেকে সাতজনকে সাত দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা সরেননি, বরং জেলা প্রশাসকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। ভুক্তভোগী সুমাইয়া খাতুন ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক বাড়ির মালিকের দাবি, তাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও প্রশাসন জমির ন্যায্য মূল্য বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কথা বলছে না। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে তারা মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই ছাড়বেন না।

জানা গেছে, ১৯৯১-৯২ সালে বেইলি ব্রিজ নির্মাণের সময় ৯ জনের দুই একর ৩৯ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হলেও মাত্র দুজন ক্ষতিপূরণ পেয়েছিলেন, বাকি ৭ জন পাননি। দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম জানান, প্রশাসন বলছে সঠিক কাগজপত্রের অভাবে ভুক্তভোগীরা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি তাদের কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। এই দীর্ঘসূত্রিতার মাশুল দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সেতু নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সাহিন আলম ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার গুজব অস্বীকার করে বলেন, বন্যা, বৃষ্টি ও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণেই কাজ বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদার আব্দুল মান্নান জানান, তাদের কাজে কোনো গাফিলতি নেই এবং উচ্ছেদ সমস্যার দ্রুত সমাধান হলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাহিনুল ইসলাম জানান, বর্ষার কারণে মাঝের পিলারের কাজ বন্ধ থাকলেও জমি অধিগ্রহণ শেষ না থাকায় সংযোগ সড়কের কাজও করা যাচ্ছে না। তবে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এতে করে দুর্লভপুর ও মনাকষার ব্যবসায়ীরা পণ্য আনা-নেয়ার জন্য ২০-৩০ কিলোমিটার ঘুরে কানসাট ব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

২০২৪ সালের পাঁচ মার্চ জেলা এলজিইডি অফিসের ০১-২০৯১-২০৯২ স্মারকে সাতজনের নামে অধিগ্রহণ করা জমি থেকে সাত দিনের মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh