একক বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ গঠনে জাতীয় সংসদে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল পাস
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সমন্বিত করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের লক্ষ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
নতুন এই আইনের আওতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বিলুপ্ত করা হবে। এগুলোর পরিবর্তে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি একক সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান গঠিত হবে। বিলটি পাসের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিভিন্ন বিদ্যমান আইনের অধীনে পরিচালিত সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও পুনরাবৃত্তি বিনিয়োগকারীদের ‘ওয়ান-উইন্ডো’ সেবা প্রাপ্তিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই একীভূতকরণের মাধ্যমে সেই জটিলতা নিরসন হবে।
নতুন এই কর্তৃপক্ষ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, সরকারি সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সমন্বয়, বিনিয়োগ প্রণোদনা অনুমোদন এবং শিল্পাঞ্চল ও পিপিপি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সব ধরনের লাইসেন্স ও পারমিটের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে সব সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে।
কর্তৃপক্ষটি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের সুপারিশ, বিনিয়োগ চুক্তি সম্পাদনে সহায়তা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্প সম্পদের কৌশলগত ব্যবহারের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিতে পারবে। কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি। পর্ষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বেসরকারি খাতের চারজন প্রতিনিধি (যাদের মধ্যে দুজন নারী) থাকবেন।
আইনটি কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০, বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আইন, ২০১৫, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ বাতিল হয়ে যাবে। বিলুপ্ত সংস্থাগুলোর সব সম্পদ, দায়, চুক্তি এবং জনবল নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে ন্যস্ত হবে। সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিধি শিথিল করায় সদস্যরা মৌখিকভাবে সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, যা ভবিষ্যতে বিবেচনায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্ত্রীর এই আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন।




























