নীলফামারীতে পশুহাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় ইজারাদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা
- আপডেট সময় : ১০:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

যখন সময় ডেস্ক রিপোর্ট:
নীলফামারীতে কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় ও সরকারি নির্দেশনা অমান্যের অভিযোগে নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ পশুর হাটে অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় হাটের ইজারাদারকে জরিমানা করা হয়েছে।
২৫ মে সোমবার বিকেল ৫টার নীলফামারী সদর উপজেলার রামগঞ্জ পশুর হাটে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ, এসময় প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠে আসছিল, পাশাপাশি হাটে সরকার নির্ধারিত হাসিল তালিকা প্রকাশ্যে টাঙ্গানো হয়নি বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং পশুর হাটে সরকার নির্ধারিত হাসিল তালিকা প্রদর্শন না করার সত্যতা পাওয়ায় রামগঞ্জ হাটের ইজারাদার শফিকুল ইসলাম ও তার ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টোকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪৫ ধারায় ২০০ টাকা এবং দণ্ডবিধির ১৮৭/১৮৮ ধারায় আরও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে, অভিযান চলাকালে কয়েকজন ক্রেতা ও বিক্রেতা অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

গরু বিক্রি করতে আসা খামারি লোকমান হাকিম জানান, সরকারি রেটের চেয়ে বেশি টাকা দাবি করা হচ্ছে, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়।
আরেক বিক্রেতা মকবুল হোসেন বলেন, হাটে নির্ধারিত হাসিল কত, সেটাই সাধারণ মানুষ জানে না, তালিকা টাঙ্গানো না থাকায় ইজারাদারের লোকজন ইচ্ছে মতো টাকা নিচ্ছে।
নীলফামারী বাজার থেকে আসা ক্রেতা রশিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে, প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত হলে অনিয়ম কমবে।
ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ বলেন, কোরবানির পশুর হাটে কোনো ধরনের হয়রানি, অতিরিক্ত হাসিল আদায় কিংবা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই হাট পরিচালনা করতে হবে, কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে বা অনিয়ম করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে, সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























