ঢাকা ০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় আমজাদহাট সোসাইটির ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা ছাগলনাইয়া মানারাত হাসপাতালে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যু মুগদায় হানি ট্র্যাপ থেকে কিশোর গ্যাং অপরাধ চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ পরশুরামে প্রচেষ্টা স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নতুন কমিটি গঠন দাউদকান্দিতে ১০ কেজি গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক আটক বালিয়াকান্দিতে যুদবল সদস্য সচিবকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ২৯ বিজিবির অভিযানে ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও ইস্কফ সিরাপ উদ্ধার ন্যাশনাল হাট ফাউন্ডেশন এফিলিয়েটেড বডি সমুহের মত বিনিময় সভা ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ফুলগাজীর আমজাদহাটে সেচ নিয়ে দ্বন্দ্ব পানি না পেয়ে কৃষকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

ফখরুল আলম সাজু

ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া ফসলি মাঠে বোরো আবাদে সেচের পানি না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আমজাদ হাটের কহুয়া নদীর সন্নিকটে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ২০ থেকে ৩০ জন কৃষক একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও সেচ স্কিমের মালিক হাজী মুসা মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মাঠে উপস্থিত একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, সেচ স্কিম থেকে নিয়মিত পানি না পাওয়ায় তাদের বোরো ধান আবাদ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষক নুর নবী বলেন, পানি চাইতে গেলে তারা তাকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, তার দাবি, পানি সংকটের কারণে জমিতে ধানের স্বাভাবিক উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার ইসমাইল হোসেন জানান, স্কিম পরিচালনা কারীরা কিছু জমিকে প্রকল্পের বাইরে দাবি করলেও কৃষকদের মতে জমিগুলো প্রকল্প ভুক্ত।

তিনি বলেন, প্রকল্প ভুক্ত হোক বা না হোক, আবাদ রক্ষায় সেচ নিশ্চিত করা জরুরি, কৃষক আব্দুল আজিজের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যবস্থাপনায় স্কিম পরিচালিত হওয়ায় বর্তমান জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আগে নিয়মিত পানি পাওয়া গেলেও গত দুই বছর ধরে সংকট তীব্র হয়েছে, টাকা নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত পানি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষক এরশাদ অভিযোগ করেন, পানি চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক ধাক্কার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে সেচ স্কিমের মালিক হাজী মুসা মিয়া বলেন, দক্ষিণ তালবাড়িয়ার মাঠে ২ শতাধিক কানির বেশি জমি থাকলেও মেশিন ১টি হওয়ায় চাপ বেড়েছে, তার দাবি, অতীতে অনেক কৃষক সুবিধা নিয়েও নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেননি এবং তিনিও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খোরশেদ আলম বলেন, বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, স্কিম পরিচালনায় কৃষকের স্বার্থ বিরোধী কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জানে আলম জানান, স্কিমটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হলেও কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, দ্রুত দক্ষিণ তালবাড়িয়া মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজী অঞ্চলে বোরো মৌসুমে সেচ নির্ভরতা প্রায় সম্পূর্ণই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর, একটি সেচ মেশিনে অতিরিক্ত জমি যুক্ত হলে পানি বণ্টনে সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, এ অবস্থায় সময় মতো পানি না পেলে বোরো ধানের কুশি গঠন ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কৃষকেরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ফুলগাজীর আমজাদহাটে সেচ নিয়ে দ্বন্দ্ব পানি না পেয়ে কৃষকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
print news

ফখরুল আলম সাজু

ফেনী জেলা ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া ফসলি মাঠে বোরো আবাদে সেচের পানি না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার আমজাদ হাটের কহুয়া নদীর সন্নিকটে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে ২০ থেকে ৩০ জন কৃষক একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওয়ার্ড সভাপতি ও সেচ স্কিমের মালিক হাজী মুসা মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মাঠে উপস্থিত একাধিক কৃষক অভিযোগ করেন, সেচ স্কিম থেকে নিয়মিত পানি না পাওয়ায় তাদের বোরো ধান আবাদ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষক নুর নবী বলেন, পানি চাইতে গেলে তারা তাকে গালাগাল ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, তার দাবি, পানি সংকটের কারণে জমিতে ধানের স্বাভাবিক উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

স্থানীয় শিক্ষক মাস্টার ইসমাইল হোসেন জানান, স্কিম পরিচালনা কারীরা কিছু জমিকে প্রকল্পের বাইরে দাবি করলেও কৃষকদের মতে জমিগুলো প্রকল্প ভুক্ত।

তিনি বলেন, প্রকল্প ভুক্ত হোক বা না হোক, আবাদ রক্ষায় সেচ নিশ্চিত করা জরুরি, কৃষক আব্দুল আজিজের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যবস্থাপনায় স্কিম পরিচালিত হওয়ায় বর্তমান জটিলতা তৈরি হয়েছে।

কৃষক আব্দুল করিম বলেন, আগে নিয়মিত পানি পাওয়া গেলেও গত দুই বছর ধরে সংকট তীব্র হয়েছে, টাকা নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত পানি দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কৃষক এরশাদ অভিযোগ করেন, পানি চাওয়াকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক ধাক্কার ঘটনাও ঘটেছে।

অন্যদিকে সেচ স্কিমের মালিক হাজী মুসা মিয়া বলেন, দক্ষিণ তালবাড়িয়ার মাঠে ২ শতাধিক কানির বেশি জমি থাকলেও মেশিন ১টি হওয়ায় চাপ বেড়েছে, তার দাবি, অতীতে অনেক কৃষক সুবিধা নিয়েও নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করেননি এবং তিনিও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. খোরশেদ আলম বলেন, বোরো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, স্কিম পরিচালনায় কৃষকের স্বার্থ বিরোধী কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জানে আলম জানান, স্কিমটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হলেও কৃষকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, দ্রুত দক্ষিণ তালবাড়িয়া মাঠ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ফুলগাজী অঞ্চলে বোরো মৌসুমে সেচ নির্ভরতা প্রায় সম্পূর্ণই ভূগর্ভস্থ পানির ওপর, একটি সেচ মেশিনে অতিরিক্ত জমি যুক্ত হলে পানি বণ্টনে সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, এ অবস্থায় সময় মতো পানি না পেলে বোরো ধানের কুশি গঠন ব্যাহত হয় এবং উৎপাদন ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কৃষকেরা।